ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক দেশের জন্য ভয়াবহ: ইসলামী আন্দোলন পবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে ১ নভেম্বর থেকে চলবে দুটি ডাবল ডেকার বাস স্কুলের বাথরুমে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, আত্মগোপনে শিক্ষক ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের পক্ষে সাফাই পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের চলতি বছর প্রাণহানি ৪০০,অক্টোবরে মারা গেছে ১৫৫ জন তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা, বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জাপানের অনিশ্চিত ছিল এসএসসি, শুভর পাশে দাঁড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ১,২৯৫

বসুন্ধরা পারলে কেন সিটি করপোরেশন পারবে না

ইমদাদুল হক মিলন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪ ২৬০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোররাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল । সারা রাত আকাশে মেঘ ছিল । আষাঢ় শেষ হয়ে আসছে । বর্ষাকাল । এখন এরকমই হওয়ার কথা । আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হবে হঠাৎ করেই । ঝুপ ঝুপ করে নামবে বৃষ্টি । কখনও থেকে থেকে, কখনও অবিরাম । এ বছরের বর্ষায় প্রবল বৃষ্টি হতে পারে, আবহাওয়াবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন । জলবায়ু পরিবর্তন এখন পৃথিবীর সবচাইতে বড় সমস্যা । যেদিন আমরা পিছনে ফেলে এসেছি, যে আবহাওয়ায় বড় হয়েছি, সেই আবহাওয়া এখন আর নেই । শীতের দেশগুলোতে তীব্র গরম পড়ছে । শীতকালে শীত পড়ছে আগের তুলনায় বেশি । বরফের পাহাড় গলে যাচ্ছে আন্টার্টিকায় । দাবানলে পুড়ছে আমেরিকার বনভূমি । প্রকৃতি উল্টো- পাল্টা হয়ে গেছে । বদলে গেছে বহু কিছু ।

আরও পড়ুন :গরু ‘মাফিয়া’ ইমরান, সঙ্গী ছিলো বেনজীরও

এ বছরের গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম পড়েছিল । মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা । জীবজগৎ বিপর্যস্ত । আবহাওয়াবিদরা বলেছিলেন, বর্ষায় প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে । ক’দিন আগে তাই হলো । ভোররাত থেকে বৃষ্টি । সকাল দশটা এগারোটা পর্যস্ত থামার নাম নেই । আকাশ অন্ধকার হয়ে আছে । বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছায়াময় পরিবেশ । আমি একটু বেলা করে উঠেছি । মধ্যমাত্রার বৃষ্টি তখনও ঝরছে । দুপুর নাগাদ টেলিভিশন আর অনলাইনগুলো দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম । ঢাকা শহরের বহু এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে । রিকশার পাদানিতে উঠে গেছে পানি । বাসের চাকা ডুবে গেছে । প্রাইভেটকার ডুবে গেছে, জেগে আছে শুধু গাড়ির ছাদটুকু । নিউমার্কেট আর কাঁটাবন এলাকার দোকানপাটের ভিতর কোমর পানি । ছোট আর মাঝারি ব্যবসায়ীরা পড়ে গেছেন ব্যাপক সংকটে । দোকানের মালামাল রক্ষা করতে পারেননি । সব ভেসে গেছে বৃষ্টিতে । শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে ।

আরও পড়ুন :প্রশ্নফাঁসের টাকা পেতেন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা!

অন্যদিকে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ । কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ, বাড়ি ফেরার মানুষ, ছাত্র- ছাত্রী প্রত্যেকেই পড়েছে চরম দুর্ভোগে । গাড়ি চলছে না । হেঁটে বাড়ি ফিরছে মানুষ । তাদের কোমরের ওপর পর্যন্ত পানি । পুরান ঢাকার অলিগলি রাজপথ ডুবে গেছে । ঘরে ঢুকে গেছে পানি । মানুষ দিশেহারা । এ অবস্থা কেমন করে সামাল দেবে? এক বেলার বৃষ্টিতে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত । অথচ কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে ঢাকা শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য । কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না । বৃষ্টি হলেই ডুবছে রাস্তাঘাট । বিপাকে পড়ছে মানুষ । আবহাওয়াবিদদের সাবধানতা বা ভবিষ্যদ্বাণী সিটি করপোরেশন দুটো সেভাবে মনে রাখেনি ।

মনে রেখে আগাম ব্যবস্থা নিলে শহরবাসী এরকম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ত না । এই বিষয়ে দুই মেয়রের তীক্ষ্ণ নজর থাকা জরুরি ছিল । ঢাকার খালগুলো প্রায় সবই বুজে গেছে । দখল হয়ে গেছে । সবই আছে খালগুলোতে, শুধু পানিটাই নেই । পানির প্রবাহ বলতে কিছু নেই । ময়লা আবর্জনার ভাগাড় হয়ে গেছে একেকটা খাল । মেয়র মহোদয়দের দেখি, প্রায়ই খাল উদ্ধারের অভিযান করছেন । দু- একটা খাল দখল মুক্তও করছেন । তারপর আর খবর নেই । আগের মতো দখল হয়ে যাচ্ছে । আরেক মহাশত্রু হয়েছে পলিথিন । এই জিনিসের কোনও বিনাশ নেই । শুধুমাত্র পলিথিনই ডুবিয়ে দিচ্ছে অনেক অর্জন ।

আরও পড়ুন :বেনজীরের আলাদীনের চেরাগ দুদকে বন্দি

এই বিষয়টি নিয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সচেতন হওয়া জরুরি । পলিথিনের হাত থেকে বাঁচাতে হবে দেশ । পলিথিনের বিকল্প ব্যবস্থা কাজে লাগাতে হবে । এক্ষেত্রে সরকার ও মিডিয়া মিলে জনসচেতনা গড়ে তোলা জরুরি । মানুষ সচেতন হলে সমাজ পরিশিলিত হয় । গত তিরিশ পঁয়ত্রিশ বছর ধরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা । এখন বসুন্ধরা ঢাকার সবচাইতে অভিজাত এলাকা । সবচাইতে আকর্ষণীয় এলাকা । বসুন্ধরায় কারও একটি ফ্ল্যাট বা কারও এক টুকরো জমি থাকলে তিনি খুব গৌরববোধ করেন । বসুন্ধরার মতো সুবিন্যস্ত আবাসিক এলাকা ঢাকায় আর নেই । এলাকাটির পরিকল্পনা করা হয়েছে সম্পূর্ণতই ইউরোপ- আমেরিকার ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর লাগোয়া অতি আধুনিক আবাসিক শহরগুলোর মতো করে ।

সুপরিকল্পিত ও সুব্যবস্থাপূর্ণ । বড় বড় রাস্তা । রাস্তার ধার আর আইল্যান্ডগুলো সবুজ গাছপালায় ভর্তি । রাজউকের বিল্ডিংকোড মেনে নির্মিত প্রতিটি বাড়ি । সঙ্গে আছে বসুন্ধরার নিজস্ব কঠোর তদারকি । নিয়মের বাইরে একটি ইটও বসানো যাবে না । একটি গাছের পাতাও ছেঁড়া যাবে না । অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা । পুরুষমানুষরা তো বটেই, নারী ও শিশুরা চাইলেও রাত দুপুরে বাড়ির বাইরে বেড়াতে বেরোতে পারে । ডিস্টার্ব করা তো দূরের কথা, চোখ তুলেও তাকাবার সাহস পাবে না কেউ । নিরাপত্তায় নিয়োজিত গাড়িভর্তি কর্মী চব্বিশঘণ্টা টহল দিচ্ছে ।

আরও পড়ুন :ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কলকাতায় যাচ্ছেন স্ত্রী ও মেয়ে

ঢাকার ভিতরেই বসুন্ধরা সম্পূর্ণ এক আলাদা জগৎ । স্বপ্নের বাসভূমি । এটা সম্ভব হয়েছে সুপরিকল্পনা ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন আর প্রয়োগের ফলে । গত কয়েক বছর আগে বর্ষার বৃষ্টিতে বসুন্ধরার কোথাও কোথাও পানি জমে যেত । এই নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন কর্তৃপক্ষ । সুদূর প্রসারী আধুনিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে রাতারাতি সামাল দিলেন সেই সমস্যা । গড়ে তুললেন অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা । যত বৃষ্টিই হোক, বসুন্ধরায় এখন আর পানি জমে না । জোরালো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি এক মিনিটও দাঁড়াতে পারে না । সঙ্গে আছে এলাকার ড্রেনগুলোর সঠিক তদারকি । পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বহুকর্মী নিয়োজিত এই কাজে । কী নেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়? হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, খেলার মাঠ, শপিং মল, সুন্দর সুন্দর মসজিদ, গোরস্থান, অতি আধুনিক সব রেস্টুরেন্ট । এক কথায় সব মিলিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা বর্তমান বিশ্বের অতি আধুনিক এক মনোরম শহর ।

আরও পড়ুন : কোটা ইস্যু: ঢাবিতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা নিয়ে কথাগুলো বলার কারণ, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র মহোদয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করা । বসুন্ধরায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অনুকরণ করে তাঁরা খুব সহজেই হঠাৎ বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা শহরকে অনেকখানি মুক্তি দিতে পারেন ।

মানুষকে দুর্ভোগ মুক্ত করতে পারেন, ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে পারেন ক্ষতির হাত থেকে । ছাত্র- ছাত্রী আর পথচলা মানুষদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পারেন । বৃষ্টির তোড়ে হঠাৎ অসহায় হয়ে পড়া গৃহবাসীদের সুরক্ষা দিতে পারেন । এই শহরের মানুষকে স্বস্তিতে বসবাস করার সুযোগ করে দিতে পারেন । এসব তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে । বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয় তাঁরা ভাববেন । তাঁদের চোখের সামনেই তো উদাহরণ হিসেবে আছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বসুন্ধরা পারলে কেন সিটি করপোরেশন পারবে না

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

ভোররাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল । সারা রাত আকাশে মেঘ ছিল । আষাঢ় শেষ হয়ে আসছে । বর্ষাকাল । এখন এরকমই হওয়ার কথা । আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হবে হঠাৎ করেই । ঝুপ ঝুপ করে নামবে বৃষ্টি । কখনও থেকে থেকে, কখনও অবিরাম । এ বছরের বর্ষায় প্রবল বৃষ্টি হতে পারে, আবহাওয়াবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন । জলবায়ু পরিবর্তন এখন পৃথিবীর সবচাইতে বড় সমস্যা । যেদিন আমরা পিছনে ফেলে এসেছি, যে আবহাওয়ায় বড় হয়েছি, সেই আবহাওয়া এখন আর নেই । শীতের দেশগুলোতে তীব্র গরম পড়ছে । শীতকালে শীত পড়ছে আগের তুলনায় বেশি । বরফের পাহাড় গলে যাচ্ছে আন্টার্টিকায় । দাবানলে পুড়ছে আমেরিকার বনভূমি । প্রকৃতি উল্টো- পাল্টা হয়ে গেছে । বদলে গেছে বহু কিছু ।

আরও পড়ুন :গরু ‘মাফিয়া’ ইমরান, সঙ্গী ছিলো বেনজীরও

এ বছরের গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম পড়েছিল । মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা । জীবজগৎ বিপর্যস্ত । আবহাওয়াবিদরা বলেছিলেন, বর্ষায় প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে । ক’দিন আগে তাই হলো । ভোররাত থেকে বৃষ্টি । সকাল দশটা এগারোটা পর্যস্ত থামার নাম নেই । আকাশ অন্ধকার হয়ে আছে । বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছায়াময় পরিবেশ । আমি একটু বেলা করে উঠেছি । মধ্যমাত্রার বৃষ্টি তখনও ঝরছে । দুপুর নাগাদ টেলিভিশন আর অনলাইনগুলো দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম । ঢাকা শহরের বহু এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে । রিকশার পাদানিতে উঠে গেছে পানি । বাসের চাকা ডুবে গেছে । প্রাইভেটকার ডুবে গেছে, জেগে আছে শুধু গাড়ির ছাদটুকু । নিউমার্কেট আর কাঁটাবন এলাকার দোকানপাটের ভিতর কোমর পানি । ছোট আর মাঝারি ব্যবসায়ীরা পড়ে গেছেন ব্যাপক সংকটে । দোকানের মালামাল রক্ষা করতে পারেননি । সব ভেসে গেছে বৃষ্টিতে । শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে ।

আরও পড়ুন :প্রশ্নফাঁসের টাকা পেতেন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা!

অন্যদিকে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ । কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ, বাড়ি ফেরার মানুষ, ছাত্র- ছাত্রী প্রত্যেকেই পড়েছে চরম দুর্ভোগে । গাড়ি চলছে না । হেঁটে বাড়ি ফিরছে মানুষ । তাদের কোমরের ওপর পর্যন্ত পানি । পুরান ঢাকার অলিগলি রাজপথ ডুবে গেছে । ঘরে ঢুকে গেছে পানি । মানুষ দিশেহারা । এ অবস্থা কেমন করে সামাল দেবে? এক বেলার বৃষ্টিতে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত । অথচ কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে ঢাকা শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য । কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না । বৃষ্টি হলেই ডুবছে রাস্তাঘাট । বিপাকে পড়ছে মানুষ । আবহাওয়াবিদদের সাবধানতা বা ভবিষ্যদ্বাণী সিটি করপোরেশন দুটো সেভাবে মনে রাখেনি ।

মনে রেখে আগাম ব্যবস্থা নিলে শহরবাসী এরকম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ত না । এই বিষয়ে দুই মেয়রের তীক্ষ্ণ নজর থাকা জরুরি ছিল । ঢাকার খালগুলো প্রায় সবই বুজে গেছে । দখল হয়ে গেছে । সবই আছে খালগুলোতে, শুধু পানিটাই নেই । পানির প্রবাহ বলতে কিছু নেই । ময়লা আবর্জনার ভাগাড় হয়ে গেছে একেকটা খাল । মেয়র মহোদয়দের দেখি, প্রায়ই খাল উদ্ধারের অভিযান করছেন । দু- একটা খাল দখল মুক্তও করছেন । তারপর আর খবর নেই । আগের মতো দখল হয়ে যাচ্ছে । আরেক মহাশত্রু হয়েছে পলিথিন । এই জিনিসের কোনও বিনাশ নেই । শুধুমাত্র পলিথিনই ডুবিয়ে দিচ্ছে অনেক অর্জন ।

আরও পড়ুন :বেনজীরের আলাদীনের চেরাগ দুদকে বন্দি

এই বিষয়টি নিয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সচেতন হওয়া জরুরি । পলিথিনের হাত থেকে বাঁচাতে হবে দেশ । পলিথিনের বিকল্প ব্যবস্থা কাজে লাগাতে হবে । এক্ষেত্রে সরকার ও মিডিয়া মিলে জনসচেতনা গড়ে তোলা জরুরি । মানুষ সচেতন হলে সমাজ পরিশিলিত হয় । গত তিরিশ পঁয়ত্রিশ বছর ধরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা । এখন বসুন্ধরা ঢাকার সবচাইতে অভিজাত এলাকা । সবচাইতে আকর্ষণীয় এলাকা । বসুন্ধরায় কারও একটি ফ্ল্যাট বা কারও এক টুকরো জমি থাকলে তিনি খুব গৌরববোধ করেন । বসুন্ধরার মতো সুবিন্যস্ত আবাসিক এলাকা ঢাকায় আর নেই । এলাকাটির পরিকল্পনা করা হয়েছে সম্পূর্ণতই ইউরোপ- আমেরিকার ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর লাগোয়া অতি আধুনিক আবাসিক শহরগুলোর মতো করে ।

সুপরিকল্পিত ও সুব্যবস্থাপূর্ণ । বড় বড় রাস্তা । রাস্তার ধার আর আইল্যান্ডগুলো সবুজ গাছপালায় ভর্তি । রাজউকের বিল্ডিংকোড মেনে নির্মিত প্রতিটি বাড়ি । সঙ্গে আছে বসুন্ধরার নিজস্ব কঠোর তদারকি । নিয়মের বাইরে একটি ইটও বসানো যাবে না । একটি গাছের পাতাও ছেঁড়া যাবে না । অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা । পুরুষমানুষরা তো বটেই, নারী ও শিশুরা চাইলেও রাত দুপুরে বাড়ির বাইরে বেড়াতে বেরোতে পারে । ডিস্টার্ব করা তো দূরের কথা, চোখ তুলেও তাকাবার সাহস পাবে না কেউ । নিরাপত্তায় নিয়োজিত গাড়িভর্তি কর্মী চব্বিশঘণ্টা টহল দিচ্ছে ।

আরও পড়ুন :ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কলকাতায় যাচ্ছেন স্ত্রী ও মেয়ে

ঢাকার ভিতরেই বসুন্ধরা সম্পূর্ণ এক আলাদা জগৎ । স্বপ্নের বাসভূমি । এটা সম্ভব হয়েছে সুপরিকল্পনা ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন আর প্রয়োগের ফলে । গত কয়েক বছর আগে বর্ষার বৃষ্টিতে বসুন্ধরার কোথাও কোথাও পানি জমে যেত । এই নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন কর্তৃপক্ষ । সুদূর প্রসারী আধুনিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে রাতারাতি সামাল দিলেন সেই সমস্যা । গড়ে তুললেন অত্যাধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা । যত বৃষ্টিই হোক, বসুন্ধরায় এখন আর পানি জমে না । জোরালো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি এক মিনিটও দাঁড়াতে পারে না । সঙ্গে আছে এলাকার ড্রেনগুলোর সঠিক তদারকি । পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বহুকর্মী নিয়োজিত এই কাজে । কী নেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়? হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, খেলার মাঠ, শপিং মল, সুন্দর সুন্দর মসজিদ, গোরস্থান, অতি আধুনিক সব রেস্টুরেন্ট । এক কথায় সব মিলিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা বর্তমান বিশ্বের অতি আধুনিক এক মনোরম শহর ।

আরও পড়ুন : কোটা ইস্যু: ঢাবিতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা নিয়ে কথাগুলো বলার কারণ, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র মহোদয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করা । বসুন্ধরায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অনুকরণ করে তাঁরা খুব সহজেই হঠাৎ বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা শহরকে অনেকখানি মুক্তি দিতে পারেন ।

মানুষকে দুর্ভোগ মুক্ত করতে পারেন, ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে পারেন ক্ষতির হাত থেকে । ছাত্র- ছাত্রী আর পথচলা মানুষদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পারেন । বৃষ্টির তোড়ে হঠাৎ অসহায় হয়ে পড়া গৃহবাসীদের সুরক্ষা দিতে পারেন । এই শহরের মানুষকে স্বস্তিতে বসবাস করার সুযোগ করে দিতে পারেন । এসব তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে । বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয় তাঁরা ভাববেন । তাঁদের চোখের সামনেই তো উদাহরণ হিসেবে আছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ।