তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা, বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জাপানের

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জাতীয় উন্নয়নে তারেক রহমান সরকারের উদ্যোগে জাপানের জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর নিজের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান তাকাইচি।
পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের অংশীদার বন্ধু হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী রহমানকে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টাকে জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি জাপানের স্বীকৃতি এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাকাইচি বলেন, ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে দুই নেতা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। উদ্যোগটিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামে একটি নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করার বিষয়েও অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তাকাইচি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই দেশটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের অবদানের প্রশংসা করে দেশটিকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন তারেক রহমান। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের অবিচল সমর্থনের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন বলে জানান তাকাইচি।
দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত দুই দেশের নেতাদের যৌথ বিবৃতিকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করে তাকাইচি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায়—এবং আজ ঘোষিত নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতির আলোকে—আমরা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করব।’
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তাকাইচি বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আমি প্রধানমন্ত্রী রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করব।’
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির বিষয়ে অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহও স্পষ্ট হয়েছে।





















