ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের পক্ষে সাফাই পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের চলতি বছর প্রাণহানি ৪০০,অক্টোবরে মারা গেছে ১৫৫ জন তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা, বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জাপানের অনিশ্চিত ছিল এসএসসি, শুভর পাশে দাঁড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ১,২৯৫ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর শিক্ষাজীবন শেষ করেই চাকরি, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু পেছাল এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ক্রসফায়ার ফেরানোর প্রস্তুতি আছে বলেই আইজিপির বক্তব্য: আখতার হোসেন

অনিশ্চিত ছিল এসএসসি, শুভর পাশে দাঁড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে স্বপ্ন দেখছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ। কিন্তু প্রায় দুই বছরের বকেয়া স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি ও এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করতে না পারায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল তার শিক্ষাজীবন।এমন পরিস্থিতিতে শুভর পাশে দাঁড়িয়েছে এবিজি (আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ) ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনটির আর্থিক সহায়তায় এবার বকেয়া পরিশোধ করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পথ সুগম হচ্ছে শুভর। গাজীপুরের পাজুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুভর বাবা জীবিকার তাগিদে এলাকার ডেইরি ফার্ম থেকে দুধ কিনে বাজারে বিক্রি করেন। পাশাপাশি অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে কোনোমতে চালান সংসার।সীমিত আয়ের এই পরিবারে ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ।

তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেনি শুভর স্বপ্ন। গত চার বছর ধরে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তির আওতায় প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে পাচ্ছেন তিনি। এই বৃত্তির অর্থ তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।কিন্তু এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে ভালো প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক সংকট আরো বেড়ে যায়। বৃত্তির টাকা দিয়ে কোচিংয়ের মাসিক বেতন পরিশোধ করলেও স্কুলের বকেয়া বেতন, পরীক্ষার ফি ও রেজিস্ট্রেশন ফি জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শুভর এই সংকটের বিষয়টি এবিজি ফাউন্ডেশনের নজরে এলে তার শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা দূর করতে এগিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। গত রবিবার গাজীপুর মহানগরের চাপুলিয়ায় মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শুভর স্কুলের দুই বছরের বকেয়া বেতন, পরীক্ষার ফি, এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফিসহ অন্যান্য বকেয়া পরিশোধের জন্য অনুদান দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার, শিক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ ও তার মা নাছিমা বেগমের হাতে এবিজি ফাউন্ডেশনের অনুদানের চেক তুলে দেন কালের কণ্ঠের স্টাফ ফটোসাংবাদিক লুৎফর রহমান।

মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি শুধু গাজীপুরেই নয়, সারা দেশে অনেক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজেদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি এবিজি ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

সহায়তা পেয়ে শুভর মা নাছিমা বেগম এবিজি ফাউন্ডেশন এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অভাবের কারণে যে শিক্ষাজীবন থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সেই অনিশ্চয়তা কাটানোর পথ তৈরি করে দিল এবিজি ফাউন্ডেশন। শুভর মতো আর্থিক সংকটে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এমন উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং স্বপ্ন পূরণের পথে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অনিশ্চিত ছিল এসএসসি, শুভর পাশে দাঁড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে স্বপ্ন দেখছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ। কিন্তু প্রায় দুই বছরের বকেয়া স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি ও এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করতে না পারায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল তার শিক্ষাজীবন।এমন পরিস্থিতিতে শুভর পাশে দাঁড়িয়েছে এবিজি (আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ) ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনটির আর্থিক সহায়তায় এবার বকেয়া পরিশোধ করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পথ সুগম হচ্ছে শুভর। গাজীপুরের পাজুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুভর বাবা জীবিকার তাগিদে এলাকার ডেইরি ফার্ম থেকে দুধ কিনে বাজারে বিক্রি করেন। পাশাপাশি অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে কোনোমতে চালান সংসার।সীমিত আয়ের এই পরিবারে ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ।

তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেনি শুভর স্বপ্ন। গত চার বছর ধরে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তির আওতায় প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে পাচ্ছেন তিনি। এই বৃত্তির অর্থ তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।কিন্তু এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে ভালো প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক সংকট আরো বেড়ে যায়। বৃত্তির টাকা দিয়ে কোচিংয়ের মাসিক বেতন পরিশোধ করলেও স্কুলের বকেয়া বেতন, পরীক্ষার ফি ও রেজিস্ট্রেশন ফি জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না।

শুভর এই সংকটের বিষয়টি এবিজি ফাউন্ডেশনের নজরে এলে তার শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা দূর করতে এগিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। গত রবিবার গাজীপুর মহানগরের চাপুলিয়ায় মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শুভর স্কুলের দুই বছরের বকেয়া বেতন, পরীক্ষার ফি, এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফিসহ অন্যান্য বকেয়া পরিশোধের জন্য অনুদান দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার, শিক্ষার্থী তাসলিম আহমেদ শুভ ও তার মা নাছিমা বেগমের হাতে এবিজি ফাউন্ডেশনের অনুদানের চেক তুলে দেন কালের কণ্ঠের স্টাফ ফটোসাংবাদিক লুৎফর রহমান।

মফিজ উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা আক্তার বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি শুধু গাজীপুরেই নয়, সারা দেশে অনেক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজেদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি এবিজি ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

সহায়তা পেয়ে শুভর মা নাছিমা বেগম এবিজি ফাউন্ডেশন এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অভাবের কারণে যে শিক্ষাজীবন থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সেই অনিশ্চয়তা কাটানোর পথ তৈরি করে দিল এবিজি ফাউন্ডেশন। শুভর মতো আর্থিক সংকটে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এমন উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং স্বপ্ন পূরণের পথে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।