ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্কুলের বাথরুমে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, আত্মগোপনে শিক্ষক ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের পক্ষে সাফাই পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের চলতি বছর প্রাণহানি ৪০০,অক্টোবরে মারা গেছে ১৫৫ জন তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা, বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জাপানের অনিশ্চিত ছিল এসএসসি, শুভর পাশে দাঁড়াল এবিজি ফাউন্ডেশন হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ১,২৯৫ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর শিক্ষাজীবন শেষ করেই চাকরি, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু পেছাল এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের অবস্থানের কোনো মিল নেই—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে এমন বার্তাই উঠে এসেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে আইজিপির বক্তব্যকে অসতর্ক মন্তব্য হিসেবে অভিহিত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এমন কথা বলা ঠিক হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আইজিপির বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ-সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে সরকার।

আইজিপির বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ তাকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল আখ্যা দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে আইজিপির এই বক্তব্যের পর সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন প্রতিক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান—দুটি বিষয়ই আলোচনায় এসেছে।

বিএনপির ভেতরেও অস্বস্তি

আইজিপির বক্তব্যকে সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে বিএনপি। সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ‘ক্রসফায়ার’-এর কথা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে।

আইজিপির বক্তব্যের পর জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা

সমালোচনার মুখে সোমবার সন্ধ্যায় বক্তব্যটির ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। তাদের দাবি, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতেই তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি জানিয়েছেন, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি। তাঁর বক্তব্যে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট—অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে, কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই।

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের অবস্থানের কোনো মিল নেই—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে এমন বার্তাই উঠে এসেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে আইজিপির বক্তব্যকে অসতর্ক মন্তব্য হিসেবে অভিহিত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এমন কথা বলা ঠিক হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আইজিপির বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ-সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে সরকার।

আইজিপির বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ তাকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল আখ্যা দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে আইজিপির এই বক্তব্যের পর সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন প্রতিক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান—দুটি বিষয়ই আলোচনায় এসেছে।

বিএনপির ভেতরেও অস্বস্তি

আইজিপির বক্তব্যকে সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে বিএনপি। সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ‘ক্রসফায়ার’-এর কথা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে।

আইজিপির বক্তব্যের পর জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।

পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা

সমালোচনার মুখে সোমবার সন্ধ্যায় বক্তব্যটির ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। তাদের দাবি, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতেই তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি জানিয়েছেন, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি। তাঁর বক্তব্যে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট—অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে, কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই।

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।