ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই নেপালে মহাবিপর্যয়: হিমবাহ ধস থেকে কীভাবে নামল মৃত্যুর ঢল? বন্ধ কারখানা চালুতে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ ঢাকার দায়িত্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আস্থার প্রতিফলন দেখছেন টাঙ্গাইলবাসী ৬৪ জেলার দেখভালে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ, ভাগ হলো দায়িত্ব মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে, যশোরে চাঞ্চল্য ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সংসদে রুমিনের তীব্র ক্ষোভ কালিহাতীতে দুই মিষ্টির দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা শাহজাহান সিরাজ কলেজের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনায়! পিকআপসহ চালক আটক নেপালের বন্যায় নিহতদের স্মরণে সংসদে শোক প্রস্তাব

বন্ধ কারখানা চালুতে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু ও অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ১৭টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে গঠিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে। এ অর্থ ৩৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, উৎপাদন খাতে নতুন করে অর্থায়নের ফলে বন্ধ কারখানা চালু হবে, বাড়বে উৎপাদন এবং তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো সম্মতি দিয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গড়ে ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করবে।

তিনি জানান, ঋণের অর্থ যাতে অন্য খাতে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হবে। ঋণ বিতরণ ও ব্যবহারের তথ্য একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এদিকে, স্বল্প সুদের এ ঋণ নিতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেলেও ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, জ্বালানি সংকট, কাঁচামাল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির সমাধান না করে শুধু অর্থায়ন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উৎপাদনে ফিরতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো যাচাই করা জরুরি।

তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, প্রণোদনার অর্থ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এই অর্থায়ন শিল্পখাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বন্ধ কারখানা চালুতে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু ও অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ১৭টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে গঠিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে। এ অর্থ ৩৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, উৎপাদন খাতে নতুন করে অর্থায়নের ফলে বন্ধ কারখানা চালু হবে, বাড়বে উৎপাদন এবং তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো সম্মতি দিয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গড়ে ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করবে।

তিনি জানান, ঋণের অর্থ যাতে অন্য খাতে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হবে। ঋণ বিতরণ ও ব্যবহারের তথ্য একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এদিকে, স্বল্প সুদের এ ঋণ নিতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেলেও ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, জ্বালানি সংকট, কাঁচামাল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির সমাধান না করে শুধু অর্থায়ন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উৎপাদনে ফিরতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো যাচাই করা জরুরি।

তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, প্রণোদনার অর্থ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এই অর্থায়ন শিল্পখাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তারা।