শতভাগ জিপিএ-৫ নিয়ে প্রশ্ন, নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। শতভাগ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জনের পেছনে নিয়মবহির্ভূত কোনো কৌশল নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক অফিস আদেশে এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ সাফল্য ও রেকর্ডসংখ্যক জিপিএ-৫ নিয়ে বিভিন্ন মহলে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নজরে আসে। এরপর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সাত দিনের মধ্যে দিতে হবে ব্যাখ্যা
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস কর্তৃপক্ষকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শুধু শোকজ নয়, অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্যও চেয়েছে বোর্ড। এর মধ্যে রয়েছে—
- নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য;
- ভর্তি-সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র;
- এসএসসি নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা;
- এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য।
শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে নির্দেশনাটিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
ফলাফল নিয়ে যে অভিযোগ
অভিযোগের মূল বিষয় হলো, শতভাগ সাফল্য ও জিপিএ-৫-এর হার ধরে রাখতে নির্বাচনী পরীক্ষায় তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া কিংবা তাদের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ না দেওয়ার মতো কৌশল নেওয়া হয়েছিল কি না।
এভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বাইরে রেখে কৃত্রিমভাবে শতভাগ সাফল্যের ফলাফল দেখানো হয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। শিক্ষা বোর্ডের শোকজের জবাব এবং পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের এবারের ফলাফল নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরই শিক্ষা বোর্ডের এই পদক্ষেপ সামনে এলো। এখন প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ব্যাখ্যা ও চাওয়া নথিপত্র যাচাইয়ের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।


























