রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
৩৪৯ সদস্যের সংসদে ফখরুল এগিয়ে, অলি আহমদের পক্ষে যাবে কত ভোট?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে।
সংসদে সংখ্যার হিসাবে অবশ্য ফলাফল অনেকটাই স্পষ্ট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপির সদস্য ২৪৭ জন এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সদস্য ৯০ জন। ফলে প্রাথমিক হিসাবেই মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত।
তবে এবারের নির্বাচনকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ফলাফল বদলে দেওয়ার মতো কোনো অনিশ্চয়তা না থাকলেও অলি আহমদ কত ভোট পান, বিরোধী জোটের ৯০টি ভোট অটুট থাকে কি না এবং অন্য ১২ সংসদ সদস্যের ভোট কোন দিকে যায়—এসবই হয়ে উঠেছে মূল আলোচনার বিষয়।
নজর ১২টি ভোটে
দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের বাইরে থাকা ১২ সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনজন বিএনপির মিত্র গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রতিনিধি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন সদস্য রয়েছেন। বাকি আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।
এই ১২ ভোটের কয়েকটি যদি অলি আহমদের পক্ষে যায়, তাহলে বিরোধী জোট সেটিকে রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে। বিপরীতে মির্জা ফখরুল বিএনপির বাইরে থেকেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেলে সেটি তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বার্তা হিসেবে দেখাতে চাইবে ক্ষমতাসীন দল।
অর্থাৎ অলি আহমদের জন্য এবারের লড়াই মূলত রাষ্ট্রপতি হওয়ার চেয়ে জোটের ভোট ধরে রাখা এবং অতিরিক্ত ভোট আদায় করার লড়াই।
প্রকাশ্য ভোটে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেন। ব্যালটে ভোটদাতার নাম ও আসন নম্বর উল্লেখ থাকে। ফলে কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এরই মধ্যে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশন পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় এ ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে ভিন্ন আইনি মত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে দেওয়া ভোট বাতিলের নির্দিষ্ট বিধান নেই।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের দলীয় ভোট-বিচ্যুতির সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অলি আহমদের প্রার্থিতায় আলাদা বার্তা
অলি আহমদের প্রার্থিতার রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। একসময় খালেদা জিয়ার সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।
সেই অলি আহমদই এবার বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের জন্য তাঁর এই প্রার্থিতা তাই প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে সামনে রেখে জোটটি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের আলাদা বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জোটের ঐক্যেরও পরীক্ষা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিরোধী ১১-দলীয় জোটের জন্যও এক ধরনের পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। অলি আহমদ যদি জোটের ৯০টি ভোটের সব কটি পান, তাহলে সেটিকে বিরোধী জোটের ঐক্যের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে দেখানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে ভোটের সংখ্যা কমে গেলে জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্যদিকে মির্জা ফখরুলের জন্যও এবারের নির্বাচন একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে তিনি সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদে চলে যাবেন।
সব মিলিয়ে ২০ আগস্টের ভোটে কে রাষ্ট্রপতি হবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই স্পষ্ট। এখন আসল কৌতূহল—অলি আহমদ কত ভোট পাবেন, ৯০ ভোটের বিরোধী জোট অটুট থাকবে কি না এবং ১২টি অনিশ্চিত ভোট শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে।





















