ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দশানী নদীর ভয়াবহ ভাঙন

ঝুঁকিতে সাজেলেরচর বাজার ও তিন উপজেলার সংযোগ সেতু

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের ইসলামপুরে দশানী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। নদীর তীব্র স্রোতে হুমকির মুখে পড়েছে সাজেলেরচর বাজার, নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি এবং তিন উপজেলার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের ডাকপাড়া, টেংরাকুড়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের বছরের একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমি একের পর এক নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও।

অন্যদিকে চরপুটিমারী ইউনিয়নের সাজেলেরচর বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অব্যাহত ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী বাজার, সংযোগ সড়ক ও নদীতীরের বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাজারসংলগ্ন তিন উপজেলার একমাত্র সংযোগ সেতুটি নিয়ে। নদীর ভাঙনে সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি সরে গিয়ে এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই সেখানে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যেকোনো সময় সেতুটির অ্যাপ্রোচ ধসে গিয়ে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কালাম মিয়া বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন।

স্থানীয় শিক্ষক মো. শাহিন ইসলাম বলেন, নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দশানী নদীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও স্থায়ীভাবে নদী সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ এবং সেতুর অ্যাপ্রোচ সংস্কার করা না হলে তিন উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে তাঁরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. জুবায়ের বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দশানী নদীর ভয়াবহ ভাঙন

ঝুঁকিতে সাজেলেরচর বাজার ও তিন উপজেলার সংযোগ সেতু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুরে দশানী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। নদীর তীব্র স্রোতে হুমকির মুখে পড়েছে সাজেলেরচর বাজার, নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি এবং তিন উপজেলার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের ডাকপাড়া, টেংরাকুড়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের বছরের একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমি একের পর এক নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও।

অন্যদিকে চরপুটিমারী ইউনিয়নের সাজেলেরচর বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অব্যাহত ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী বাজার, সংযোগ সড়ক ও নদীতীরের বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাজারসংলগ্ন তিন উপজেলার একমাত্র সংযোগ সেতুটি নিয়ে। নদীর ভাঙনে সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি সরে গিয়ে এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই সেখানে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যেকোনো সময় সেতুটির অ্যাপ্রোচ ধসে গিয়ে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কালাম মিয়া বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন।

স্থানীয় শিক্ষক মো. শাহিন ইসলাম বলেন, নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দশানী নদীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও স্থায়ীভাবে নদী সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ এবং সেতুর অ্যাপ্রোচ সংস্কার করা না হলে তিন উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে তাঁরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. জুবায়ের বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।