বাজেট পাসের আগে বড় পরিবর্তন, মিলতে পারে করদাতাদের স্বস্তি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭ পাসের আগে কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় কয়েকটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের আপত্তির মুখে কয়েকটি সিদ্ধান্ত সংশোধন বা প্রত্যাহারের চিন্তা করছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থ বিল ২০২৬ পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মঙ্গলবার (৩০ জুন) পাস হবে নতুন অর্থবছরের বাজেট, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
যেসব বিষয়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—খুচরা ব্যবসায় প্যাকেজভিত্তিক ভ্যাট, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা, আয়কর স্ল্যাব এবং জমির মূলধনী মুনাফা কর।
প্রস্তাবিত বাজেটে বছরে ৫০ লাখ টাকার কম বিক্রয় হয় এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা ছিল। ব্যবসার ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী মাসে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্যাট নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চাপ ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে সরকার।
এ ছাড়া নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, করযোগ্য আয় না থাকা সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবায় এতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
করদাতাদের জন্য বড় পরিবর্তন আসতে পারে করমুক্ত আয়সীমায়। বর্তমানে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা থাকা করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
পাশাপাশি আয়করের বিভিন্ন স্তর বা স্ল্যাবেও পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের চাপ কমাতে কিছু সমন্বয় আনা হতে পারে।
জমির মূলধনী মুনাফা কর নিয়েও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, নতুন কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করের আওতা বাড়ানো জরুরি হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে বাজেটের বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাবে সরকারের নমনীয় অবস্থান করদাতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে অর্থ বিল ও বাজেট পাসের পর।



















