ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই শহীদের অনুদানের টাকা দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে? মায়ের অভিযোগ আমিত্ব -প্রতারণার দেয়াল ইথানের শরীর থেকে গুলি বের করা যায়নি এখনো এনসিটির দায়িত্ব পাচ্ছে আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড ইন্দিরা পেরেছিলেন, ‘নিঃস্ব’ মমতা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন? চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের নেতা-মাস্টারমাইন্ড কে? সংসদে তুমুল বিতর্ক দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি: দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক ডিআইজিসহ পুলিশের ২১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি-পদায়ন

আমিত্ব -প্রতারণার দেয়াল

শহিদুল ইসলাম দইচ
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

​শ্রাবণের অবিশ্রান্ত ধারায় যখন চারপাশ ভেসে যায়, তখন মনে হয় পৃথিবীর সব বিষণ্ণতা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। কিন্তু মানুষের মনের ভেতরের মরুভূমি কি এত সহজে ভেজে?

​বিশাল এই মহাবিশ্বে পাহাড়ের অটল মহিমা, সমুদ্র সৈকতের অবিরাম গর্জন আর কোনো সুদূর দ্বীপের একাকীত্ব—সবকিছুই যেন এক পরম সত্যের দিকে ইশারা করে। প্রকৃতিতে কোনো লোভ নেই, কোনো কৃত্রিমতা নেই। অথচ আমরা, সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও, দিন দিন যেন এক একটি সচল অস্ত্র হয়ে উঠছি। যেখানে আবেগ গৌণ, হিসাব-নিকাশই মুখ্য।
​আজকের সমাজটার দিকে তাকালে জীবনের এক অদ্ভুত প্রহসন চোখে পড়ে। ঠিক যেমনটা দেখা যায় ভোটের রাজনীতিতে –ক্ষমতা আর স্বার্থকে কুক্ষিগত করার এক নির্মম প্রতিযোগিতা। সেখানে ‘আমার’, ‘আমি’, আর ‘আমিত্ব’ ছাড়া আর কোনো সত্য নেই। এই তীব্র স্বার্থপরতার স্রোতে ভেসে গিয়ে আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়: মানবতা বড় ধর্ম।

​আমরা ভুলে যাই যে, জীবনের প্রকৃত আনন্দ লুকিয়ে আছে সৎকর্মে সুখ খোঁজার মাঝে।তবুও মানুষ এক অনন্ত, অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষার পেছনে ছুটে চলে। সেই আকাঙ্ক্ষা যখন অন্ধ করে দেয়, তখন মানুষ অবলীলায় করতে পারে প্রতারণা
​আমাদের চারপাশের চেনা গল্পগুলো বড় অদ্ভুত। ক্ষমতার বা প্রয়োজনের চেয়ারে বসে আমরা অন্যকে মূল্যহীন ভাবা শুরু করি। সুযোগ সন্ধানী আচরণ করি। সব ধরনের সুবিধা নিয়ে, দিনশেষে নির্দ্বিধায় উপকারকে অস্বীকার করা আজ যেন এক নিয়মে পরিণত হয়েছে। কাজ ফুরিয়ে গেলে যাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে চরম চরম বিপদে ফেলা হয়েছিল, স্বার্থের চাকা ঘুরলে, সামান্য বিশ্রাম বা অবসরের পর, তাকেই দরকার হয়ে পড়ে। কথা দিয়ে কথা না রাখা, প্রয়োজনে আবার মায়াবী মুখে কাছে টেনে নেওয়া—এই তো এক শ্রেণির মানুষের চেনা রূপ।

​যিনি উপকার করেছিলেন, তিনি হয়তো একাকীত্বের ঝরনার পাশে বসে ভাবেন, মানুষের মন এত ছদ্মবেশী কেন? কেন মানুষ এতটা স্বার্থপর হতে পারে?

​কিন্তু এই অবিচারের কি কোনো উত্তর নেই? প্রকৃতির একটা নিজস্ব নিয়ম আছে। মানুষের তৈরি করা অন্যায়গুলো সাময়িকভাবে জয়ী হলেও, এক পরম শক্তির আদালত সবসময় সচল থাকে।

​সেখানেই প্রতিষ্ঠা পায় অদৃশ্য ইনসাফ। মানুষের চোখকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও সেই পরম বিচারকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। প্রকৃতন্যায় প্রতিষ্ঠা তখনই হয়, যখন প্রকৃতির নিয়মে যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

​অহংকার, আমিত্ব আর প্রতারণার দেয়াল একদিন ভাঙবেই। সেদিন মানুষ বুঝবে, উপকারের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং প্রকৃত মনুষ্যত্ব। আর সেই বোধোদয়ের মাধ্যমেই পৃথিবীতে টিকে থাকবে মানবতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আমিত্ব -প্রতারণার দেয়াল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

​শ্রাবণের অবিশ্রান্ত ধারায় যখন চারপাশ ভেসে যায়, তখন মনে হয় পৃথিবীর সব বিষণ্ণতা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। কিন্তু মানুষের মনের ভেতরের মরুভূমি কি এত সহজে ভেজে?

​বিশাল এই মহাবিশ্বে পাহাড়ের অটল মহিমা, সমুদ্র সৈকতের অবিরাম গর্জন আর কোনো সুদূর দ্বীপের একাকীত্ব—সবকিছুই যেন এক পরম সত্যের দিকে ইশারা করে। প্রকৃতিতে কোনো লোভ নেই, কোনো কৃত্রিমতা নেই। অথচ আমরা, সৃষ্টির সেরা জীব হয়েও, দিন দিন যেন এক একটি সচল অস্ত্র হয়ে উঠছি। যেখানে আবেগ গৌণ, হিসাব-নিকাশই মুখ্য।
​আজকের সমাজটার দিকে তাকালে জীবনের এক অদ্ভুত প্রহসন চোখে পড়ে। ঠিক যেমনটা দেখা যায় ভোটের রাজনীতিতে –ক্ষমতা আর স্বার্থকে কুক্ষিগত করার এক নির্মম প্রতিযোগিতা। সেখানে ‘আমার’, ‘আমি’, আর ‘আমিত্ব’ ছাড়া আর কোনো সত্য নেই। এই তীব্র স্বার্থপরতার স্রোতে ভেসে গিয়ে আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়: মানবতা বড় ধর্ম।

​আমরা ভুলে যাই যে, জীবনের প্রকৃত আনন্দ লুকিয়ে আছে সৎকর্মে সুখ খোঁজার মাঝে।তবুও মানুষ এক অনন্ত, অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষার পেছনে ছুটে চলে। সেই আকাঙ্ক্ষা যখন অন্ধ করে দেয়, তখন মানুষ অবলীলায় করতে পারে প্রতারণা
​আমাদের চারপাশের চেনা গল্পগুলো বড় অদ্ভুত। ক্ষমতার বা প্রয়োজনের চেয়ারে বসে আমরা অন্যকে মূল্যহীন ভাবা শুরু করি। সুযোগ সন্ধানী আচরণ করি। সব ধরনের সুবিধা নিয়ে, দিনশেষে নির্দ্বিধায় উপকারকে অস্বীকার করা আজ যেন এক নিয়মে পরিণত হয়েছে। কাজ ফুরিয়ে গেলে যাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে চরম চরম বিপদে ফেলা হয়েছিল, স্বার্থের চাকা ঘুরলে, সামান্য বিশ্রাম বা অবসরের পর, তাকেই দরকার হয়ে পড়ে। কথা দিয়ে কথা না রাখা, প্রয়োজনে আবার মায়াবী মুখে কাছে টেনে নেওয়া—এই তো এক শ্রেণির মানুষের চেনা রূপ।

​যিনি উপকার করেছিলেন, তিনি হয়তো একাকীত্বের ঝরনার পাশে বসে ভাবেন, মানুষের মন এত ছদ্মবেশী কেন? কেন মানুষ এতটা স্বার্থপর হতে পারে?

​কিন্তু এই অবিচারের কি কোনো উত্তর নেই? প্রকৃতির একটা নিজস্ব নিয়ম আছে। মানুষের তৈরি করা অন্যায়গুলো সাময়িকভাবে জয়ী হলেও, এক পরম শক্তির আদালত সবসময় সচল থাকে।

​সেখানেই প্রতিষ্ঠা পায় অদৃশ্য ইনসাফ। মানুষের চোখকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও সেই পরম বিচারকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। প্রকৃতন্যায় প্রতিষ্ঠা তখনই হয়, যখন প্রকৃতির নিয়মে যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

​অহংকার, আমিত্ব আর প্রতারণার দেয়াল একদিন ভাঙবেই। সেদিন মানুষ বুঝবে, উপকারের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং প্রকৃত মনুষ্যত্ব। আর সেই বোধোদয়ের মাধ্যমেই পৃথিবীতে টিকে থাকবে মানবতা।