রামিসা হত্যা মামলার রায় কার্যকর কবে?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় না; এর জন্য কয়েকটি বাধ্যতামূলক আইনি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ডেথ রেফারেন্স, আপিল এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে সব আইনি ধাপ শেষ করে প্রায় তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগেএদিন সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে আসামি স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। পরে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৮টা ৪৫ মিনিটে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার ঠিক আগে মুহূর্তে তাদের ট্রাইব্যুনালে ওঠানো হয়।
এদিকে, রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। এছাড়াও আদালত চত্বর ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে।অন্যদিকে, আসামিপক্ষ প্রধান আসামি সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না খাতুনের জন্য লঘুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়।
সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান।
ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামির বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান।
এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
পরে গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। একই দিন আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।























