ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাটি লিভারের নেপথ্যে যে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমানে ফ্যাটি লিভার বা যকৃতে চর্বি জমার সমস্যা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। সাধারণত অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিংবা মদ্যপানকে এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়—‘কোলিন’ নামের একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি।

প্রখ্যাত চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী The Lancet-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শরীরে পর্যাপ্ত কোলিন না থাকলে লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

কী এই কোলিন?

কোলিন ভিটামিন বা খনিজ নয়, তবে শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে, কোষে পুষ্টি পরিবহন করে এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়।

শরীরে কোলিনের ঘাটতি দেখা দিলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে চর্বি ভাঙার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ধীরে ধীরে লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেদ জমতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ফ্যাটি লিভারের কারণ হতে পারে।

শুধু লিভার নয়, মস্তিষ্কের জন্যও জরুরি

কোলিন শরীরে গিয়ে ‘অ্যাসিটাইলকোলিন’ নামে একটি নিউরোট্রান্সমিটারে রূপান্তরিত হয়। এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলিনের পর্যাপ্ত উপস্থিতি—

  • স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে
  • পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে
  • স্নায়ুতন্ত্র সচল রাখে
  • গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

কোন খাবারে মিলবে কোলিন?

আমিষ উৎস

  • ডিম (একটি ডিমে প্রায় ১৪৭ মিলিগ্রাম কোলিন)
  • মুরগির মাংস
  • ছোট মাছ
  • খাসির কলিজা বা মেটে

নিরামিষ উৎস

  • সয়াবিন ও সয়া চাঙ্ক
  • ডালিয়া ও কিনোয়া
  • ফুলকপি
  • ব্রকোলি
  • মাশরুম
  • চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, পেস্তা ও আখরোট

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

চিকিৎসকদের মতে, কোলিনের চাহিদা পূরণে সাপ্লিমেন্টের চেয়ে প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভর করাই বেশি নিরাপদ। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে কোলিনের ঘাটতি সহজেই পূরণ করা সম্ভব এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও অনেকটা কমানো যায়।

ফলে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে শুধু চর্বিযুক্ত খাবার কমানোই নয়, খাদ্যতালিকায় কোলিনসমৃদ্ধ খাবার রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফ্যাটি লিভারের নেপথ্যে যে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বর্তমানে ফ্যাটি লিভার বা যকৃতে চর্বি জমার সমস্যা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। সাধারণত অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিংবা মদ্যপানকে এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়—‘কোলিন’ নামের একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি।

প্রখ্যাত চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী The Lancet-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শরীরে পর্যাপ্ত কোলিন না থাকলে লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

কী এই কোলিন?

কোলিন ভিটামিন বা খনিজ নয়, তবে শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে, কোষে পুষ্টি পরিবহন করে এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়।

শরীরে কোলিনের ঘাটতি দেখা দিলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে চর্বি ভাঙার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ধীরে ধীরে লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেদ জমতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ফ্যাটি লিভারের কারণ হতে পারে।

শুধু লিভার নয়, মস্তিষ্কের জন্যও জরুরি

কোলিন শরীরে গিয়ে ‘অ্যাসিটাইলকোলিন’ নামে একটি নিউরোট্রান্সমিটারে রূপান্তরিত হয়। এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলিনের পর্যাপ্ত উপস্থিতি—

  • স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে
  • পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে
  • স্নায়ুতন্ত্র সচল রাখে
  • গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

কোন খাবারে মিলবে কোলিন?

আমিষ উৎস

  • ডিম (একটি ডিমে প্রায় ১৪৭ মিলিগ্রাম কোলিন)
  • মুরগির মাংস
  • ছোট মাছ
  • খাসির কলিজা বা মেটে

নিরামিষ উৎস

  • সয়াবিন ও সয়া চাঙ্ক
  • ডালিয়া ও কিনোয়া
  • ফুলকপি
  • ব্রকোলি
  • মাশরুম
  • চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, পেস্তা ও আখরোট

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

চিকিৎসকদের মতে, কোলিনের চাহিদা পূরণে সাপ্লিমেন্টের চেয়ে প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভর করাই বেশি নিরাপদ। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে কোলিনের ঘাটতি সহজেই পূরণ করা সম্ভব এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও অনেকটা কমানো যায়।

ফলে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে শুধু চর্বিযুক্ত খাবার কমানোই নয়, খাদ্যতালিকায় কোলিনসমৃদ্ধ খাবার রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।