মন্ত্রিসভা ও দলে বড় পরিবর্তনের আভাস বিএনপিতে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
দলীয় কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক পারফরম্যান্স এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকজন এমপি ও মন্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, সরকারের কার্যক্রমে গতি আনা এবং জনমনে ইতিবাচক বার্তা দিতে শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলীয় পর্যবেক্ষণে মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক দুর্বলতা, চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন এমপি ও মন্ত্রীর কর্মকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, ক্ষমতার দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে যারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না, তাদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সঙ্গে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল—এই তিন সংগঠন থেকে অন্তত ছয়জন প্রভাবশালী নেতা ইতোমধ্যে এমপি ও মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। এছাড়া ঢাকা-১৮ আসনের এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ফেনী-১ আসনের রফিকুল আলম মজনু, ভোলা-৪ আসনের নূরুল ইসলাম নয়ন এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এসএম জিলানীও এই তালিকায় রয়েছেন। তাদেরকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট তিন সংগঠনে নেতৃত্ব পুনর্গঠনের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
একইসঙ্গে দলীয় ও সাংগঠনিক পর্যায়ে থাকা আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা পরিবর্তনের আলোচনায় রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৪ আসনের শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এরশাদ উল্যাহ এবং নরসিংদী-১ আসনের খায়রুল কবির খোকন।
এছাড়া বান্দরবানের সাচিং প্রু, সিলেটের এমরান আহমদ চৌধুরী, নরসিংদীর মনজুর এলাহী, জামালপুরের ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম ও শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, চাঁদপুরের শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ আরও কয়েকজনকে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের পদ ছাড়তে হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দল ও সরকারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা হতো। সে সময় কোনো নেতা সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হলে অন্যদের নেতৃত্বের সুযোগ দিতে জেলা বা মহানগরের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াতেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তার মতে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ অনুসরণ করেই দল ও সরকারের কার্যক্রমকে আরও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে চান বলে দলীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিএনপি নেতৃত্ব এখন আরও কৌশলী অবস্থানে রয়েছে। তাই আগামী দিনে মন্ত্রিসভা ও দলীয় দায়িত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

























