কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির ছায়া, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৬:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
কারওয়ান বাজারে দৈনিক কোটি টাকা চাঁদাবাজি—এমন অভিযোগ ঘিরে আবারও সরব হয়ে উঠেছে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা বাজারটি। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী চক্র বাজার থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করছে, যা দিনে দিনে ভয়াবহ আকার নিয়েছে।
ঢাকার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র কারওয়ান বাজার-এ প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য। এই বাজার ঘিরে রয়েছে পাইকারি আড়ত, পরিবহন, শ্রমিক ও খুচরা বিক্রেতাদের বিশাল নেটওয়ার্ক। কিন্তু এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালেই চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন নয়।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজি হয় বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
সোমবার (১৬ মে) রাজধানীতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত বাজেট সংলাপে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, আগে কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির সঙ্গে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিল, আর এখনো একই দলের লোকজন এসব নিয়ন্ত্রণ করছে। তার দাবি অনুযায়ী, বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়।
এমপি মিলন আরও অভিযোগ করেন, এসব চাঁদাবাজির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এমনকি অভিযোগ জানাতেও নানা বাধার মুখে পড়তে হয় এবং এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রাক প্রবেশ থেকে শুরু করে আড়ত বরাদ্দ, দোকান পরিচালনা এবং পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে আলাদা আলাদা গোষ্ঠী নিয়মিত টাকা আদায় করে থাকে। অনেক সময় নির্ধারিত অঙ্ক না দিলে হয়রানি, পণ্য আটকে রাখা বা ব্যবসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।
একজন আড়তদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিদিন সকালে বাজারে ঢুকতেই বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হয়। না দিলে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়, পণ্য নামাতে দেওয়া হয় না।”
তবে এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছেন সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ। তাদের দাবি, বাজারে কোনো সংগঠিত চাঁদাবাজি নেই; কিছু অনিয়ম থাকলেও সেগুলো প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটিতে স্বচ্ছতা না থাকলে তার প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পড়ে। চাঁদা আদায়ের কারণে পরিবহন ও পাইকারি খরচ বেড়ে যায়, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদেরই বহন করতে হয়।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, বাজারকেন্দ্রিক যেকোনো অনিয়ম বা চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে বড় বাজার হওয়ায় সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ সবসময় কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ীদের একাংশ এখন দাবি করছেন, কারওয়ান বাজারে স্থায়ী নজরদারি, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট টাস্কফোর্স গঠন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
























