আমেরিকার ষড়যন্ত্রেই গদি হারান ইমরান!
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বারবার অভিযোগ করেছিলেন তিনি। তাতেই যেন সিলমোহর পড়ল। আমেরিকার ষড়যন্ত্রেই গদি হয়েছিলেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ( Imran Khan)। এমনটাই দাবি করা হয়েছে খোদ একটি রিপোর্টে। শুধু তা-ই নয়, সেখানে অন্তর্ঘাতের তত্ত্বেরও উল্লেখ রয়েছে।
মার্কিন তদন্তমূলক খবরের ওয়েবসাইট ‘ড্রপ সাইট’-এর একটি গোপন নথি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। নথিটির নাম ‘সাইফার’। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালের মার্চে আমেরিকায় পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খান এবং এক মার্কিন কর্তা ডোনাল্ড লু একটি বৈঠক করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তার কয়েকদিনের মধ্যেই পাক সংসদে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বিদেশি শক্তির মদতেই তাঁকে গদিচ্যুত করা হয়েছে।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জো বাইডেন প্রশাসনের ওই আধিকারিক পাক রাষ্ট্রদূতকে সরানোর জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু কেন? প্রথমত, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয়ত, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেননি তিনি। এসব নিয়েই ইমরানের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল ওয়াশিংটন। সূত্রের খবর, বৈঠকে ডোনাল্ড জানিয়েছিলেন, যদি পাকিস্তান কোনওভাবে ইমরানকে সরাতে পারে, তাহলে ইসলামাবাদের সব কিছু ক্ষমা করে দেবে আমেরিকা।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ইমরান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার অনেক আগে থেকেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী গোপনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিল। ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল এক প্রাক্তন সিআইএ-ঘনিষ্ঠ আধিকারিকের সঙ্গেও। ইমরান সরকারের পতনের পর নতুন সরকার এবং পাক সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। শুধু তা-ই নয়, ইউক্রেন যুদ্ধে গোপনে গোলাবারুদও সরবরাহ করেছিল ইসলামাবাদ। মধ্যস্থতার দায়িত্বে ছিল আমেরিকা।
প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর স্বাধীন বিদেশনীতি এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ঐক্যমত না হওয়ায় তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করছে আমেরিকা। দাবি করেছিলেন, এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত পাকিস্তানের দু’টি প্রধান রাজনৈতিক দলও।২০২২ সালের এপ্রিল মাসে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইমরান খান বলেছিলেন, “আমেরিকা চায় আমি যাতে সরে যাই। তাহলেই সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” একইসঙ্গে আফগানিস্তানে তালিবানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের মাটি ব্যবহারে অনুমতি না দেওয়ায় ওয়াশিংটন যে ক্ষুব্ধ ছিল, সেকথাও তিনি উত্থাপিত করেছিলেন।























