আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ঘোষণা
জুলাই হত্যাকাণ্ড: ওসি–এসপিদের তালিকা হচ্ছে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৩ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র–জনতা নিহত হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তালিকা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ।
রিফাত রশিদ বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যেসব থানার আওতায় ছাত্র–জনতাকে হত্যা করা হয়েছে, সেসব থানার ওসি, এসপি ও তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই তালিকা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দমন–পীড়নের মুখে একপর্যায়ে গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ওই অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান।
অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। ইতোমধ্যে একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি ও শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার; জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র–শ্রমিক–জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি; এবং জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের স্বীকৃতি, সম্মাননা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া আন্দোলনের পক্ষ থেকে দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময় রিফাত রশিদ বলেন, ‘কোনো টালবাহানা নয়—এবার অ্যাকশন হবে।’
মাহদী হাসানের জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি মামলায় জামিন হলেও তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি। ফলে প্রথম দাবিটি এখনো পূরণ হয়নি এবং আন্দোলন চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।























