ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করুন শৈশব থেকে

মোহাম্মন কবির হোসেন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫ ২৬৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একখন্ড মানচিত্র, শিশুর শিক্ষা ও দেশপ্রেম নিয়ে। একটি পতাকা মানে একখন্ড মানচিত্র, একটি চেতনার নাম, জাতীয়তার প্রতীক। একটি পতাকা একটি দেশের পরিচয় বহন করে এবং জাগ্রত করে দেশপ্রেম। লাল সবুজ পতাকা আমাদের তারুণ্যের অহংকার, জাতীয় ঐক্যের সেতুবন্ধন। একটি দেশের অগ্রযাত্রা নির্ভর করে জাতীয় ঐক্যের উপর।

১৯৭১ সালে জাতীয় ঐক্যেরভীতের উপর দাঁড়িয়ে মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে এবং পৃথিবীতে ইতিহাসে রচিত হয় বাংলাদেশের গৌরব গাঁথা। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাঙালি জাতীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ঘটনা। আমাদের দেশপ্রেম থেকে উৎসারিত একটি আবেগ পূর্ণ বীরত্বগাথা, যা আমাদের মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলবে চিরকাল। আর শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের গর্বিত উত্তরসূরি, আমাদের জাতি ও জাতীয় চেতনার প্রতিনিধি। তাই শিশুদের সুকৌশলে শৈশব থেকেই দিতে হবে দেশপ্রেমের পাঠ।

এই বিজয়ের মাসে ওদের হাতে তুলে দিতে হবে লাল সবুজের পতাকা। ওদের কোনোতে হবে বিজয়ের কথা। আমাদের গৌরবগাথা ইতিহাস ওরা যার ধারক বাহক ও উত্তরাধিকারী। বাঙ্গালীদের মধ্যে তখন কোনো বিভেদ ছিল না, একই লক্ষ্যে সবাই ছিল অনড়। যার ফলশ্রুতিতে আমরা পেলাম স্বাধীনদেশ। আমাদের ছিলনা কোনো বিশাল সৈন্য বাহিনী, গোলাবারুদ ও যুদ্ধাস্ত্র। কিন্তু তার পরও পাকিস্তানি বাহিনী সবাই মিলেও দমাতে পারেনি বাঙ্গালীর অদম্য স্পৃহাকে। ভাঙ্গতে পারেনি বাঙ্গালীর ঐক্য। কালের পরিক্রমায় আজ আমাদের মধ্যে সেই ঐক্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আজ আমরা বহুধারায় বিভক্ত কেউ ডান, কেউ বাম, কেউ স্বাধীনতার পক্ষে আবার কেউ বা বিপক্ষে। নিজের স্বার্থে দেশের স্বার্থকে বিসর্জন দিতে কার্পণ্য করছে না। আমরা আজ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছি তবুও কি কাঙ্ক্ষিত দেশ গঠন করতে পেরেছি? কোথায় আমাদের ব্যর্থতা? কেন আজ আমরা এত বিভক্ত? মূলত আমরা আমাদের অতীতের ইতিহাস ভুলে গেছি, হারিয়েছি সেই সদৃঢ় বন্ধন।

নিষ্পাপ ও সুকোমল মনের অধিকারী শিশুর মনে দেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটাতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে তাদের সামনে জাতীয় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী, জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে ধারাবাহিকভাবে পরিচিত করানো দরকার। খুদে

শিশুদের কাছে উপস্থাপিত তথ্য যাতে সহজবোধ্য হয় এবং শিশু সেগুলো যাতে মুখস্ত না করে আনন্দের সঙ্গে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে সেদিকে লক্ষ রেখে মজার কাজ, আকর্ষণীয় কৌশল, আনন্দদায়ক শেখার পদ্ধতি দিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। তথাকথিত অ আ ক খ পাঠ নয়; বরং আনন্দ-গানে, খেলতে খেলতে, দেখতে দেখতে, গল্প-ছড়া শুনতে শুনতে দেশ ও জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা তাদের শেখাতে হবে। গল্পে গল্পে শিশুদের জানাতে হবে যে ডিসেম্বর আমাদের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের মাস। তাদের বলতে হবে এ বিজয় অর্জনের কাহিনী, কীভাবে বিজয় রচিত হয়েছিল ৯ মাস যুদ্ধের পর, বিজয়টি পেয়েছি আমরা কত রক্তের বিনিময়ে। তাদের বোঝাতে হবে আমরা শুধু বহিঃশত্রুর সাথে লড়াই করিনি; হানাদার পাকবাহিনীদের দোসর দালাল-রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি নামে নানা স্বাধীনতা বিরোধী তথা ঘরের শত্রু বিভীষণদেরও মোকাবিলা করতে হয়েছিল তখন।

দেশপ্রেমের অনুশীলনের হাতেখড়ি হোক পরিবারেই বিজয়ের মাসে আমরা শিশুকে বিজয়ের লাল-সবুজের পতাকার মাধ্যমে বিজয়ের ধারণা দিতে পারি। লাল-সবুজের পতাকার গাঢ় উজ্জ্বল রঙে রঙিন হয়ে যাক শিশুর মন; দেশের সবুজ প্রকৃতি আর সূর্যের রঙে রাঙা রক্তে ত্যাগে ও দেশপ্রেমের আবেগে সমুজ্জ্বল হোক শিশুর কোমল হৃদয়। তাই লাল-সবুজের পতাকা হাতে তুলে দিন আপনার সন্তান- আমাদের নতুন প্রজন্মের হাতে। ওদের দেশকে ভালোবাসার সূচনা হোক আপনার হাতে, পরিবার থেকেই।

৫ ই আগষ্ট ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের ঘটনা শিশুদেরকে দৈনিক সমাবেশে ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা দিতে হবে। যার কারনে শিশুরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হবে।

লেখক: মোহাম্মন কবির হোসেন
সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মাধবপুর, হবিগঞ্জ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিশুকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করুন শৈশব থেকে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

একখন্ড মানচিত্র, শিশুর শিক্ষা ও দেশপ্রেম নিয়ে। একটি পতাকা মানে একখন্ড মানচিত্র, একটি চেতনার নাম, জাতীয়তার প্রতীক। একটি পতাকা একটি দেশের পরিচয় বহন করে এবং জাগ্রত করে দেশপ্রেম। লাল সবুজ পতাকা আমাদের তারুণ্যের অহংকার, জাতীয় ঐক্যের সেতুবন্ধন। একটি দেশের অগ্রযাত্রা নির্ভর করে জাতীয় ঐক্যের উপর।

১৯৭১ সালে জাতীয় ঐক্যেরভীতের উপর দাঁড়িয়ে মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে এবং পৃথিবীতে ইতিহাসে রচিত হয় বাংলাদেশের গৌরব গাঁথা। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাঙালি জাতীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ঘটনা। আমাদের দেশপ্রেম থেকে উৎসারিত একটি আবেগ পূর্ণ বীরত্বগাথা, যা আমাদের মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলবে চিরকাল। আর শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের গর্বিত উত্তরসূরি, আমাদের জাতি ও জাতীয় চেতনার প্রতিনিধি। তাই শিশুদের সুকৌশলে শৈশব থেকেই দিতে হবে দেশপ্রেমের পাঠ।

এই বিজয়ের মাসে ওদের হাতে তুলে দিতে হবে লাল সবুজের পতাকা। ওদের কোনোতে হবে বিজয়ের কথা। আমাদের গৌরবগাথা ইতিহাস ওরা যার ধারক বাহক ও উত্তরাধিকারী। বাঙ্গালীদের মধ্যে তখন কোনো বিভেদ ছিল না, একই লক্ষ্যে সবাই ছিল অনড়। যার ফলশ্রুতিতে আমরা পেলাম স্বাধীনদেশ। আমাদের ছিলনা কোনো বিশাল সৈন্য বাহিনী, গোলাবারুদ ও যুদ্ধাস্ত্র। কিন্তু তার পরও পাকিস্তানি বাহিনী সবাই মিলেও দমাতে পারেনি বাঙ্গালীর অদম্য স্পৃহাকে। ভাঙ্গতে পারেনি বাঙ্গালীর ঐক্য। কালের পরিক্রমায় আজ আমাদের মধ্যে সেই ঐক্য খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আজ আমরা বহুধারায় বিভক্ত কেউ ডান, কেউ বাম, কেউ স্বাধীনতার পক্ষে আবার কেউ বা বিপক্ষে। নিজের স্বার্থে দেশের স্বার্থকে বিসর্জন দিতে কার্পণ্য করছে না। আমরা আজ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছি তবুও কি কাঙ্ক্ষিত দেশ গঠন করতে পেরেছি? কোথায় আমাদের ব্যর্থতা? কেন আজ আমরা এত বিভক্ত? মূলত আমরা আমাদের অতীতের ইতিহাস ভুলে গেছি, হারিয়েছি সেই সদৃঢ় বন্ধন।

নিষ্পাপ ও সুকোমল মনের অধিকারী শিশুর মনে দেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটাতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে তাদের সামনে জাতীয় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনী, জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে ধারাবাহিকভাবে পরিচিত করানো দরকার। খুদে

শিশুদের কাছে উপস্থাপিত তথ্য যাতে সহজবোধ্য হয় এবং শিশু সেগুলো যাতে মুখস্ত না করে আনন্দের সঙ্গে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে সেদিকে লক্ষ রেখে মজার কাজ, আকর্ষণীয় কৌশল, আনন্দদায়ক শেখার পদ্ধতি দিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। তথাকথিত অ আ ক খ পাঠ নয়; বরং আনন্দ-গানে, খেলতে খেলতে, দেখতে দেখতে, গল্প-ছড়া শুনতে শুনতে দেশ ও জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা তাদের শেখাতে হবে। গল্পে গল্পে শিশুদের জানাতে হবে যে ডিসেম্বর আমাদের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের মাস। তাদের বলতে হবে এ বিজয় অর্জনের কাহিনী, কীভাবে বিজয় রচিত হয়েছিল ৯ মাস যুদ্ধের পর, বিজয়টি পেয়েছি আমরা কত রক্তের বিনিময়ে। তাদের বোঝাতে হবে আমরা শুধু বহিঃশত্রুর সাথে লড়াই করিনি; হানাদার পাকবাহিনীদের দোসর দালাল-রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি নামে নানা স্বাধীনতা বিরোধী তথা ঘরের শত্রু বিভীষণদেরও মোকাবিলা করতে হয়েছিল তখন।

দেশপ্রেমের অনুশীলনের হাতেখড়ি হোক পরিবারেই বিজয়ের মাসে আমরা শিশুকে বিজয়ের লাল-সবুজের পতাকার মাধ্যমে বিজয়ের ধারণা দিতে পারি। লাল-সবুজের পতাকার গাঢ় উজ্জ্বল রঙে রঙিন হয়ে যাক শিশুর মন; দেশের সবুজ প্রকৃতি আর সূর্যের রঙে রাঙা রক্তে ত্যাগে ও দেশপ্রেমের আবেগে সমুজ্জ্বল হোক শিশুর কোমল হৃদয়। তাই লাল-সবুজের পতাকা হাতে তুলে দিন আপনার সন্তান- আমাদের নতুন প্রজন্মের হাতে। ওদের দেশকে ভালোবাসার সূচনা হোক আপনার হাতে, পরিবার থেকেই।

৫ ই আগষ্ট ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের ঘটনা শিশুদেরকে দৈনিক সমাবেশে ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা দিতে হবে। যার কারনে শিশুরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হবে।

লেখক: মোহাম্মন কবির হোসেন
সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মাধবপুর, হবিগঞ্জ