ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহান মে দিবস আজ

ভালো নেই শ্রমজীবীরা

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন। এই দিনের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস হিসেবে স্বীকৃত। শ্রমিক মানুষের রক্তঝরা এদিন ঘুরে ঘুরে আসে আমাদের জাতীয় জীবনে।

দুনিয়ার দেশে দেশে। এখনো শ্রমিকের রক্ত ঝরে রাজপথে, কারখানার করিডরে। ঐতিহাসিক এদিনে দেশে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এই খরতাপের মধ্যেই জীবনধারণের জন্য আয় রোজগারের জন্য কাজে নামতে হয়েছে তাদের। প্রাকৃতিক এই বৈরী পরিবেশের মধ্যেও চলে শ্রমজীবীদের দিনবদলের সংগ্রাম। বাংলাদেশে ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্প মজুরির শ্রমজীবীদের ভাগ্যবদলের চাকা সামনে এগোতে চায় না। এক কথায় শ্রমজীবীরা খুব একটা ভালো নেই।

তীব্র তাপপ্রবাহে সারা দেশের লাখো শ্রমজীবীর কষ্টের প্রতিচ্ছবি রিকশাচালক আবদুল মালেক। হাঁসফাঁস করা গরমে তার মতো কাহিল হয়ে পড়ছেন রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, ফুটপাতের হকার, দিনমজুরসহ নানা পেশার শ্রমজীবী মানুষ। আগে দিনে তারা ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করলেও এখন তা করতে পারছেন পাঁচ-ছয় ঘণ্টা। এই তাপপ্রবাহের সময় বাড়তি পরিশ্রমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরমে মারা যাওয়া বেশিরভাগই শ্রমিক। কেউ বেকার হয়ে পড়ছেন; আবার কারো আয় কমে অর্ধেক হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তাপপ্রবাহকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে শ্রমজীবীদের আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর পীরেরবাগের মোম্বাই গলিতে নির্মাণাধীন একটি ভবনের শ্রমিক মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘চারপাশ থেকে যেন আগুনের হলকা গায়ে লাগছে। আধা ঘণ্টা পরপর নিচে নেমে পানি খেয়ে আবার উঠছি। কিন্তু সাইট ইঞ্জিনিয়ার আমাদের এই কষ্টের কথা বুঝতে চান না।

চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন গার্মেন্টসহ ক্ষুদ্র শিল্পের কর্মরত শ্রমিকরা। ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দার মধ্যে একদিকে চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে, অন্যদিকে বেতন কমে যাওয়ায় ঘর ভাড়া দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকতে না পেরে অনেকে শহর ছাড়ছেন। কেউ আবার পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে উঠেছেন মেসে। করোনার শুরুতে যারা ঢাকা ছেড়েছিলেন তারাও ফিরে আসেননি। কর্মসংস্থান না হওয়ায় অনেকে ফিরতে পারেননি। আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে এখনো ঢাকা ছাড়ছেন অনেক শ্রমজীবী। রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের কাতারে নতুন করে নাম লিখিয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় এত দিন সঞ্চয় ভাঙিয়ে টিকে থাকা কাজ-হারানো নিম্নবিত্ত শ্রেণি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ‘টু-লেট’ লেখা সাইনবোর্ড বেড়েই চলেছে।

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সংকুচিত হওয়ায় অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। তাই এখন যেসব কাজে বিনিয়োগ করলে কর্মসংস্থান বাড়বে, সেদিকে নজর দিতে হবে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ২৩ শতাংশে আটকে আছে। আসলে যত দ্রুত ব্যক্তি খাত ও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, তত দ্রæত সংকট কাটবে। আবার সবার কর্মসংস্থান করলেও হবে না। অনেকের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মহান মে দিবস আজ

ভালো নেই শ্রমজীবীরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন। এই দিনের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস হিসেবে স্বীকৃত। শ্রমিক মানুষের রক্তঝরা এদিন ঘুরে ঘুরে আসে আমাদের জাতীয় জীবনে।

দুনিয়ার দেশে দেশে। এখনো শ্রমিকের রক্ত ঝরে রাজপথে, কারখানার করিডরে। ঐতিহাসিক এদিনে দেশে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এই খরতাপের মধ্যেই জীবনধারণের জন্য আয় রোজগারের জন্য কাজে নামতে হয়েছে তাদের। প্রাকৃতিক এই বৈরী পরিবেশের মধ্যেও চলে শ্রমজীবীদের দিনবদলের সংগ্রাম। বাংলাদেশে ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্প মজুরির শ্রমজীবীদের ভাগ্যবদলের চাকা সামনে এগোতে চায় না। এক কথায় শ্রমজীবীরা খুব একটা ভালো নেই।

তীব্র তাপপ্রবাহে সারা দেশের লাখো শ্রমজীবীর কষ্টের প্রতিচ্ছবি রিকশাচালক আবদুল মালেক। হাঁসফাঁস করা গরমে তার মতো কাহিল হয়ে পড়ছেন রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, ফুটপাতের হকার, দিনমজুরসহ নানা পেশার শ্রমজীবী মানুষ। আগে দিনে তারা ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করলেও এখন তা করতে পারছেন পাঁচ-ছয় ঘণ্টা। এই তাপপ্রবাহের সময় বাড়তি পরিশ্রমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরমে মারা যাওয়া বেশিরভাগই শ্রমিক। কেউ বেকার হয়ে পড়ছেন; আবার কারো আয় কমে অর্ধেক হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তাপপ্রবাহকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে শ্রমজীবীদের আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর পীরেরবাগের মোম্বাই গলিতে নির্মাণাধীন একটি ভবনের শ্রমিক মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘চারপাশ থেকে যেন আগুনের হলকা গায়ে লাগছে। আধা ঘণ্টা পরপর নিচে নেমে পানি খেয়ে আবার উঠছি। কিন্তু সাইট ইঞ্জিনিয়ার আমাদের এই কষ্টের কথা বুঝতে চান না।

চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন গার্মেন্টসহ ক্ষুদ্র শিল্পের কর্মরত শ্রমিকরা। ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দার মধ্যে একদিকে চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে, অন্যদিকে বেতন কমে যাওয়ায় ঘর ভাড়া দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকতে না পেরে অনেকে শহর ছাড়ছেন। কেউ আবার পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে উঠেছেন মেসে। করোনার শুরুতে যারা ঢাকা ছেড়েছিলেন তারাও ফিরে আসেননি। কর্মসংস্থান না হওয়ায় অনেকে ফিরতে পারেননি। আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে এখনো ঢাকা ছাড়ছেন অনেক শ্রমজীবী। রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের কাতারে নতুন করে নাম লিখিয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় এত দিন সঞ্চয় ভাঙিয়ে টিকে থাকা কাজ-হারানো নিম্নবিত্ত শ্রেণি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ‘টু-লেট’ লেখা সাইনবোর্ড বেড়েই চলেছে।

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সংকুচিত হওয়ায় অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। তাই এখন যেসব কাজে বিনিয়োগ করলে কর্মসংস্থান বাড়বে, সেদিকে নজর দিতে হবে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ২৩ শতাংশে আটকে আছে। আসলে যত দ্রুত ব্যক্তি খাত ও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, তত দ্রæত সংকট কাটবে। আবার সবার কর্মসংস্থান করলেও হবে না। অনেকের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।