সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও আক্রমণাত্মক ভাষার পোস্ট ঘিরে সমালোচনা
জামিনের দিনেই নতুন বিতর্কে পরীমনি, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ফেসবুক পোস্ট

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, এক সাংবাদিককে গালিগালাজের অভিযোগ এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভাষার পোস্ট—সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর আলোচনায় ছিলেন এই অভিনেত্রী। তাঁর আচরণ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি সমর্থকদের পাল্টা অবস্থানও দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। আদালতের কার্যক্রম শেষে বের হওয়ার সময় তাঁকে কেউ ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরাও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুটি শব্দের একটি পোস্ট দেন পরীমনি। পোস্টটির ভাষা ছিল আক্রমণাত্মক ও আপত্তিকর। তবে কাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটিতে প্রায় ১২ হাজার লাইক পড়ে। মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ থাকায় অনুসারীরা সরাসরি পোস্টের নিচে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি।
জনপ্রিয়তার সঙ্গে বাড়ে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন
পরীমনির পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সমালোচকদের অনেকে মনে করছেন, একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর প্রকাশ্য ভাষা ও আচরণে সংযম থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ক্ষোভ, অপমানবোধ কিংবা বিরক্তি থাকলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা জরুরি। বিশেষ করে লাখো অনুসারীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ থাকায় তাঁর বক্তব্য দ্রুত সামাজিক আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ভক্তদের একটি অংশ ঘটনাটিকে পরিস্থিতিজনিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, আদালত প্রাঙ্গণে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগের পর পরীমনির প্রতিক্রিয়াকে প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে বিচার করা ঠিক নয়। কেউ কেউ তাঁর স্পষ্টবাদিতার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।
তবে এ বিতর্কে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। আদালত প্রাঙ্গণে ‘ব্যাড টাচ’-এর অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রতিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত ভাষার দায়ও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একটি অভিযোগের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অন্য পক্ষের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ গ্রহণযোগ্য কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
যে মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় দীর্ঘদিন ধরে বিচার চলছে পরীমনির বিরুদ্ধে। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) এ মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। তাঁর আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান আবেদনটি নামঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এর পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
আইনি লড়াইয়ের বাইরে নতুন বিতর্ক
জামিন পাওয়া একজন আসামির আইনি অধিকার। একইভাবে আদালত প্রাঙ্গণে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ হয়ে থাকলে তার প্রতিকার চাওয়ার অধিকারও রয়েছে। কিন্তু সেই আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে প্রকাশ্য আচরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাষার ব্যবহার নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
পরীমনির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে তাঁর তারকাখ্যাতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল অনুসারীর কারণে। তাঁর একটি পোস্টও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তৈরি করে নানা প্রতিক্রিয়া। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক বা আলোচনার পরিমাণ কোনো বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি নয়।
সব মিলিয়ে, মামলার আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার পরীমনির প্রকাশ্য আচরণ, সাংবাদিকদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আদালত প্রাঙ্গণের ঘটনার অভিযোগের সত্যতা যাচাই যেমন প্রয়োজন, তেমনি জনপ্রিয় ব্যক্তিদের প্রকাশ্য আচরণে সংযম ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রশ্নও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।





















