ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা দলিল সই, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে টোকিও খুদেকে সবজি খাওয়ানোর সহজ কৌশল, ১০ মিনিটেই তৈরি মজার কাটলেট সৌদি থেকে ৯ মাসে ফিরেছেন ৯৭৯ নারী, গর্ভাবস্থা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ চাকরির প্রলোভনে চীনে পাচারের চেষ্টা, উদ্ধার ১২ পাহাড়ি নারী লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার-২ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জয়পুরহাটে ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ​ ডেঙ্গুর দাপটে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু জয়-পুতুলসহ সিআরআইয়ের ৮ জনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা দলিল সই, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে টোকিও

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে এসব দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি সফরের অর্জন সম্পর্কে এসব তথ্য জানান তাঁর উপপ্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন।

সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ১৩.৪৪ মিলিয়ন ডলারের অনুদান

বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

কৃষি, মৎস্য ও কর্মসংস্থানে সহযোগিতা

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম—ইএসডিপি) নিয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্রও (লেটার অব ইনটেন্ট—এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

দুটি প্রকল্পে প্রায় ৩০ কোটি ডলার ঋণ

সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরের পাশাপাশি বাংলাদেশে দুটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

এর মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১০০ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৯৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

দুটি প্রকল্পে ঋণের পরিমাণ যোগ করলে দাঁড়ায় ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় গুরুত্ব

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান যান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

ছয়টি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর ও দুটি প্রকল্পে ঋণের প্রতিশ্রুতিকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রকৃত অর্থ ছাড়ের সমান নয়; প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও অর্থ ছাড় সংশ্লিষ্ট শর্ত এবং প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা দলিল সই, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে টোকিও

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে এসব দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি সফরের অর্জন সম্পর্কে এসব তথ্য জানান তাঁর উপপ্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন।

সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ১৩.৪৪ মিলিয়ন ডলারের অনুদান

বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

কৃষি, মৎস্য ও কর্মসংস্থানে সহযোগিতা

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম—ইএসডিপি) নিয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্রও (লেটার অব ইনটেন্ট—এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

দুটি প্রকল্পে প্রায় ৩০ কোটি ডলার ঋণ

সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরের পাশাপাশি বাংলাদেশে দুটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

এর মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১০০ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৯৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

দুটি প্রকল্পে ঋণের পরিমাণ যোগ করলে দাঁড়ায় ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় গুরুত্ব

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান যান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

ছয়টি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর ও দুটি প্রকল্পে ঋণের প্রতিশ্রুতিকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রকৃত অর্থ ছাড়ের সমান নয়; প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও অর্থ ছাড় সংশ্লিষ্ট শর্ত এবং প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।