খুদেকে সবজি খাওয়ানোর সহজ কৌশল, ১০ মিনিটেই তৈরি মজার কাটলেট

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাচ্চাদের সবজি খাওয়ানো অনেক অভিভাবকের কাছেই বেশ কঠিন কাজ। পাতে সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয় অনেক শিশু। এমনকি সবজি দিয়ে তৈরি ফ্রাইড রাইসও খেতে চায় না কেউ কেউ। অথচ শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও আঁশের জোগান নিশ্চিত করতে খাবারের তালিকায় সবজি রাখা জরুরি।
এই সমস্যা সমাধানে সহজ একটি কৌশল দেখিয়েছেন রন্ধনশিল্পী সঞ্জীব কপূর। তাঁর পরামর্শ, শিশুদের পছন্দের খাবারের সঙ্গে কৌশলে সবজি মিশিয়ে দিলে তারা সহজেই তা খেতে আগ্রহী হতে পারে। অল্প সময়ে তৈরি করা যায় এমন সবজির কাটলেট হতে পারে এ ক্ষেত্রে ভালো একটি বিকল্প।
১০ মিনিটে তৈরি সবজির কাটলেট
এই কাটলেট তৈরিতে প্রয়োজন সেদ্ধ আলু, বিট, গাজর, লবণ, কাঁচামরিচ কুচি, ধনেপাতা কুচি, ভাজা মসলা ও বিস্কুটের গুঁড়া।
প্রথমে সেদ্ধ আলু, বিট ও গাজর গ্রেট করে নিতে হবে। এরপর সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন। মিশ্রণটি ছোট ছোট কাটলেটের আকারে গড়ে নিন। এবার তাওয়ায় অল্প তেল দিয়ে কাটলেটগুলো দুই পিঠ ভালোভাবে সেঁকে নিন।
তৈরি হয়ে গেলে সসের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়। শিশুদের টিফিনেও দেওয়া যেতে পারে এই কাটলেট। আলু, বিট ও গাজরের মিশ্রণে তৈরি রঙিন খাবারটি শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তবে কাটলেট তৈরিতে ব্যবহৃত সবজি ভালোভাবে সেদ্ধ ও নরম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পুরভরা লাল শাকের পরোটা
শিশুর খাবারে শাক যোগ করার আরেকটি উপায় হতে পারে পুরভরা লাল শাকের পরোটা। এটি তৈরি করতে প্রথমে লাল শাক ভাপিয়ে পানি ঝরিয়ে মিক্সারে বেটে নিতে হবে। এরপর আটার সঙ্গে লাল শাকের বাটা ও লবণ মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে প্রায় ১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন।
পুর তৈরির জন্য গ্রেট করা পনিরের সঙ্গে ভাজা মসলা, ধনেপাতা কুচি ও লবণ মিশিয়ে নিন। এবার আটার ছোট লেচির মধ্যে পনিরের পুর ভরে গোল করে বেলে নিন। তাওয়ায় অল্প তেল দিয়ে দুই পিঠ ভালোভাবে সেঁকে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে লাল শাকের পরোটা।
পরোটার আকর্ষণীয় রং ও ভেতরের পনিরের পুর শিশুদের খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি শাক ও পনিরের মাধ্যমে খাবারে বৈচিত্র্যও আসবে।
সবজি দিয়ে তৈরি অমলেট
ডিম পছন্দ করে এমন শিশুদের সবজি খাওয়ানোর জন্য তৈরি করা যেতে পারে সবজির অমলেট। এ জন্য গ্রেট করা গাজর, বাঁধাকপি ও পেঁয়াজ ডিমের সঙ্গে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। স্বাদ অনুযায়ী লবণ ও গোলমরিচ মিশিয়ে নিতে পারেন।
এরপর সাধারণ অমলেটের মতো তাওয়ায় অল্প তেল দিয়ে রান্না করুন। তৈরি অমলেট রোল করে ছোট ছোট টুকরো করে পরিবেশন করা যায়। সঙ্গে শসার টুকরোও দেওয়া যেতে পারে।
এভাবে পরিচিত খাবারের সঙ্গে সবজি মিশিয়ে দিলে শিশুরা নতুন স্বাদের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচিত হতে পারে।
জোর নয়, আগ্রহ তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ
শিশুর খাবারে সবজি যোগ করার ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন। শিশুর পছন্দের খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণে সবজি মেশানো, খাবারকে আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন করা এবং নতুন সবজি বারবার খাওয়ার সুযোগ দেওয়া কাজে আসতে পারে।
কোনো সবজি প্রথমবার খেতে না চাইলে জোর না করে অন্যভাবে রান্না করে পরে আবার দেওয়া যেতে পারে। পরিবারের অন্যদের সবজি খেতে দেখলেও শিশু আগ্রহী হতে পারে।
তবে সবজি লুকিয়ে খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশুকে বয়স অনুযায়ী খাবারের উপাদান সম্পর্কে জানানোও ভালো। এতে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে।
মনে রাখতে হবে, একটি নির্দিষ্ট খাবার সব শিশুর পছন্দ হবে না। তাই শিশুর বয়স, পছন্দ ও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় রেখে খাবারে বৈচিত্র্য আনা এবং ধৈর্যের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।






















