জ্বালানি তেলের বাড়তি দামে চাপে চালের বাজার, কেজিতে বেড়েছে ৩ টাকা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা এবার পড়তে শুরু করেছে চালের বাজারে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি থেকে খুচরা—দুই পর্যায়েই বাড়ছে চালের দাম। রাজধানীর বাজারে গত দুই সপ্তাহে চিকন চালের কেজিতে দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। মাঝারি চালের দামও বেড়েছে ১ থেকে ২ টাকা। এর সঙ্গে পেঁয়াজ ও রসুনের বাড়তি দাম যোগ হয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ আরও বাড়িয়েছে। তবে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম, অপরিবর্তিত রয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিকন মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৭ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এ চালের দাম ছিল ৭২ থেকে ৭৫ টাকা। নাজিরশাইল চালের দাম মানভেদে ৮০ থেকে ৯৫ টাকা। মাঝারি মানের চাল কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। আর মোটা চালের দাম এখনো কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।
কারওয়ান বাজারের ঢাকা রাইস এজেন্সির মালিক মো. সায়েম বলেন, পরিবহনভাড়া বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে চিকন মিনিকেট চাল ৭৫ থেকে ৭৭ টাকা এবং নাজিরশাইল চাল মানভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নতুন নাজিরশাইল চাল বাজারে আসতে আরও প্রায় দুই মাস লাগতে পারে। তখন দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, মৌসুম সামনে থাকায় পোলাও চালের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পোলাও চালের দাম ছিল ২০০ থেকে ২১০ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়।
জোয়ারসাহারা বাজারের মুদি দোকানি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারেও।
ট্রাকভাড়ায় বাড়তি খরচ, শেষ চাপ ক্রেতার পকেটে
চালের পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে মিল, পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকান পর্যন্ত পৌঁছাতে কয়েক ধাপে পরিবহন করতে হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতিবার ট্রাকভাড়ায় অতিরিক্ত দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
এই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাবে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম গড়ে কেজিতে প্রায় এক টাকা বেড়েছে। মিল পর্যায়েও দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সেই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
সবজির বাজারে টমেটো ২০০ টাকা
চালের পাশাপাশি সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই পুরোপুরি। অধিকাংশ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও টমেটোসহ কয়েকটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
বর্তমানে প্রতি কেজি পটোল ও ঢেঁড়স ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা এবং বরবটি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং কচুমুখি ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম টমেটোর—প্রতি কেজি ২০০ টাকা। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা এবং আলু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং আকারভেদে লম্বা লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিমে কিছুটা স্বস্তি, চড়া পেঁয়াজ-রসুন
নিত্যপণ্যের বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা।
তবে মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা।
এদিকে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আমদানি করা বড় আকারের রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি রসুনের কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।
সব মিলিয়ে চালের বাড়তি দাম, চড়া সবজি এবং পেঁয়াজ-রসুনের মূল্যবৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের ব্যয় বাড়ছে। পরিবহন ব্যয়ের চাপ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার ওপর চালের বাজারের পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।



























