জুলাই আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকা, বাধ্যতামূলক অবসরে ১৪৭ পুলিশ কর্মকর্তা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
জুলাই আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার ১৪৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ৬২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩১ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাকি ৩১ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টকেন্দ্রিক ঘটনায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা পলাতক থাকার অভিযোগে এএসপি ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার ৫৭ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ২৮ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ২৯ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা, আদালতে দায়ের করা অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার ২৯ পুলিশ কর্মকর্তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার দুজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এর ২০২৫ সালের চারটি মামলার রায়ের ভিত্তিতে এএসপি ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দণ্ডিত পাঁচ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বাকি আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে।
পরিদর্শক পর্যায়েও ব্যবস্থা
গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও ৩০ পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার ৭৩ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া এসব পদক্ষেপের মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, সাময়িক বরখাস্ত, চাকরিচ্যুতি এবং বিভাগীয় মামলা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখিত বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের পরিসংখ্যানের মধ্যে কোনো পুনরাবৃত্তি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

























