পাবনায় বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালিত, নারীর অবদান ও অধিকার সুরক্ষার আহ্বান
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
‘গ্রামীণ সকল পেশার নারীর অবদানের স্বীকৃতি ও অধিকার সুরক্ষা কর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের গোয়ালবাথানে এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উবিনীগ ও নয়াকৃষি আন্দোলন, উদ্যোগে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নয়াকৃষক সামিদা খাতুন।
গোয়ালবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুবির কুমার, সহকারী শিক্ষক রিতা খাতুন, হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম ও সমন্বয়ক আজমিরা খাতুন।
প্রধান অতিথি নয়াকৃষক সামিদা খাতুন বলেন, “গ্রামীণ নারীরা কৃষি উৎপাদন, বীজ সংরক্ষণ ও পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের শ্রম ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি নারীদের অধিকার সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে রোকসানা বেগম বলেন, “গ্রামীণ নারীদের উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা, সচেতনতা এবং সামাজিক সহযোগিতা জরুরি। নারীদের সম্মান ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তাঁরা পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, “গ্রামীণ নারীরা দেশের অর্থনীতি ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের অধিকার সুরক্ষা, কর্মের স্বীকৃতি এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, “গবাদিপশু পালন ও পারিবারিক খামার পরিচালনাসহ প্রাণিসম্পদ খাতে গ্রামীণ নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হলে তাঁরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আয় বৃদ্ধিতেও অবদান রাখতে পারবেন।”
অনুষ্ঠানে নয়াকৃষাণীদের মধ্যে বক্তব্য দেন নারী উদ্যোক্তা রমেলা, নাটোর জেলার বীজ সংগ্রহকারী নিহার ভানু, নয়াকৃষাণী লক্ষ্মী রানী পাল ও শিক্ষক রানী দেব। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সদস্য শাহ আলমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, গ্রামীণ নারীরা কৃষিকাজ, বীজ সংরক্ষণ, খাদ্য উৎপাদন ও পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের শ্রম ও অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। তাই গ্রামীণ নারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, তাঁদের কাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, গ্রামীণ নারীদের অধিকার সুরক্ষা ও তাঁদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও সামগ্রিক গ্রামীণ উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
























