ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা, শরীরে পাঁচ গুলির চিহ্ন মোদীর মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের জল্পনা, পূর্ণ হতে পারে ৮১ সদস্যের কোটা ড্রেনের পাশে পড়ে ছিল নবজাতক, অতঃপর পাবনায় বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালিত, নারীর অবদান ও অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জরিমানা ছাড়াই ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্ন জমার সুযোগ টিকটকের রঙিন দুনিয়ার মোহ, স্বাধীন জীবনের স্বপ্নে ঘর ছাড়ে ৪ স্কুলছাত্রী দুর্গাপূজায় ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজায় প্রথমবার বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করছে বিআরটিসি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন স্থগিত টাঙ্গাইলে রেমিট্যান্স মেলায় গুরুত্ব পেল প্রবাসী আয়ের সঠিক ব্যবহার

মোদীর মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের জল্পনা, পূর্ণ হতে পারে ৮১ সদস্যের কোটা

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল বা সম্প্রসারণের জল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মোদী সরকারের তৃতীয় মেয়াদে এবারই সবচেয়ে বড় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংসদীয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এল. মুরুগানের পদত্যাগের খবর সামনে আসার পর এ জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে মুরুগান মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তামিলনাড়ুতে বিজেপির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে পূর্ণ সময় দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তাঁর এ সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

মুরুগান মধ্যপ্রদেশ থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। তাঁর মেয়াদ ২০৩০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদও ছেড়ে দিতে চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে তামিলনাড়ুর গ্রামাঞ্চলে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কাজ করে বিজেপির ভিত্তি শক্তিশালী করাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভায় একাধিক শূন্য পদ

মুরুগানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শূন্য পদের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এর আগে জর্জ কুরিয়ান ও রবনীত সিং বিট্টু রাজ্যসভায় পুনরায় মনোনয়ন না পাওয়ার পর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুরুগানের ছেড়ে দেওয়া রাজ্যসভার আসনে নতুন কাউকে মনোনয়ন দিয়ে তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে নতুন শিক্ষামন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যার ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না। সে হিসাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা ৮১। সংবাদমাধ্যম জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সম্প্রসারণে মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা এই সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি, এমনকি ৮০ থেকে ৮১ জনে পৌঁছাতে পারে।

নির্বাচন সামনে রেখে নতুন মুখের সম্ভাবনা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই রদবদল শুধু শূন্য পদ পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আগামী কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ নেতা ও নারী নেত্রীদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।

মুরুগানের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য রদবদলের সময় নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু সূত্রের দাবি, দুর্গাপূজার আগেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। ফলে সম্ভাব্য রদবদলের পরিধি, নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি এবং মন্ত্রণালয় বণ্টনে কী পরিবর্তন আসবে, তা জানতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মোদীর মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের জল্পনা, পূর্ণ হতে পারে ৮১ সদস্যের কোটা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল বা সম্প্রসারণের জল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মোদী সরকারের তৃতীয় মেয়াদে এবারই সবচেয়ে বড় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংসদীয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এল. মুরুগানের পদত্যাগের খবর সামনে আসার পর এ জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে মুরুগান মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তামিলনাড়ুতে বিজেপির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে পূর্ণ সময় দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তাঁর এ সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

মুরুগান মধ্যপ্রদেশ থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। তাঁর মেয়াদ ২০৩০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদও ছেড়ে দিতে চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে তামিলনাড়ুর গ্রামাঞ্চলে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কাজ করে বিজেপির ভিত্তি শক্তিশালী করাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভায় একাধিক শূন্য পদ

মুরুগানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শূন্য পদের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এর আগে জর্জ কুরিয়ান ও রবনীত সিং বিট্টু রাজ্যসভায় পুনরায় মনোনয়ন না পাওয়ার পর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুরুগানের ছেড়ে দেওয়া রাজ্যসভার আসনে নতুন কাউকে মনোনয়ন দিয়ে তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে নতুন শিক্ষামন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যার ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না। সে হিসাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা ৮১। সংবাদমাধ্যম জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সম্প্রসারণে মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা এই সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি, এমনকি ৮০ থেকে ৮১ জনে পৌঁছাতে পারে।

নির্বাচন সামনে রেখে নতুন মুখের সম্ভাবনা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই রদবদল শুধু শূন্য পদ পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আগামী কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ নেতা ও নারী নেত্রীদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।

মুরুগানের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য রদবদলের সময় নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু সূত্রের দাবি, দুর্গাপূজার আগেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। ফলে সম্ভাব্য রদবদলের পরিধি, নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি এবং মন্ত্রণালয় বণ্টনে কী পরিবর্তন আসবে, তা জানতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।