ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন গোলাম মাওলা রনি নোয়াখালীতে অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে দড়াটানা মসজিদে দোয়া মাহফিল ৭ নভেম্বরের চেতনাই হোক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কোস্টগার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন, বাদ জাতীয় চার নেতার নাম বিএনপি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রকল্প নিয়েছে: নাহিদ ইসলাম হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩১৪ যমুনার দুর্গম চরে হেকমতের হুমকিতে অবরুদ্ধ পরিবার, নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন, জামায়াতের সঙ্গে জোট ও বিস্তর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান, জামায়াতের সঙ্গে জোটের উদ্যোগ, নির্বাচনী কৌশল, নারীর অধিকার এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও মতপার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

পোস্টে সামান্তা জানান, প্রায় এক বছর আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি দলের নেতৃত্বের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। তাঁর অবস্থান ছিল, নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো বিবেচনাতেই জামায়াত এনসিপির মিত্র হতে পারে না। এ ধরনের জোটের জন্য দলকে রাজনৈতিকভাবে বড় মূল্য দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।

সামান্তার ভাষ্য, গত ১১ মাসে দলের অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব দিয়েছেন। আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, কোনো রাজনৈতিক সংগঠন ভুল পথে এগোলে সেটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা সদস্যদের দায়িত্ব। সেই বিবেচনা থেকেই তিনি দলের ভেতরে মতাদর্শিক লড়াই চালিয়ে গেছেন।

তবে প্রায় এক বছরের সেই প্রচেষ্টার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, এনসিপি আর প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের প্রতি আন্তরিক থাকতে পারবে না। ভবিষ্যতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগ করলেও পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি গড়ে তোলার সক্ষমতা দলটির থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।

সংস্কারের রাজনীতিতে জামায়াতকে মিত্র মনে করেন না

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সামান্তা প্রথমেই প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনীতিতে জামায়াত আদৌ কোনো সহযোগী হতে পারে কি না। তাঁর মতে, এনসিপির রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার। এ জন্য সাংবিধানিক সংস্কার, আইনের সংস্কার এবং রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার—এই তিনটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রয়োজন।

সামান্তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী এই তিন ক্ষেত্রের কোনো সংস্কারকেই নিজেদের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রয়োজন থেকেই দলটি সংস্কারের কথা বলছে বলে মনে করেন তিনি।

জামায়াতের দার্শনিক ভিত্তি ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাকে গণতান্ত্রিক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন সামান্তা। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই দলটির রাজনৈতিক অভিপ্রায়। এ ছাড়া ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি।

তাঁর মতে, এনসিপি জামায়াতকে সংস্কারের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করায় উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে দলটিকে জামায়াতের সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে।

নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নেতৃত্বের সমালোচনা

২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে এনসিপির কৌশল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সামান্তা শারমিন। তাঁর মতে, নির্বাচনটি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের উপলক্ষ হতে পারত। অতীতে ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচন অনেক সময় রাষ্ট্র ও রাজনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

সামান্তার অভিযোগ, পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো ২০২৬ সালের নির্বাচনকে গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক চরিত্র থেকে সরিয়ে কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচনে পরিণত করতে চেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপির সামনে পুরোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শক্তিগুলোর সঙ্গে জোট গঠন অথবা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল।

তিনি দাবি করেন, ঐকমত্য কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ব্যর্থ হওয়ার পরও এনসিপি চাইলে ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল নিতে পারত। সে পথে এগোলে নির্বাচনের ফলাফলের বাইরেও দলটির রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ ছিল।

সামান্তা জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের মতো নির্বাচনী কৌশলে অংশ না নিয়েও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পাঁচটি পদ্ধতি তিনি নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব তা অনুসরণ করেনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে নির্বাচনী জয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সংস্কারবিহীন ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে আপত্তি জানানোর নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানও দুর্বল হয়েছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তার প্রসঙ্গে শহীদ ওসমান হাদির প্রচারণার উদাহরণ টেনেছেন তিনি। সামান্তার বক্তব্য, ঢাকার একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে ন্যূনতম ৫০০ ভোট পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ওসমান হাদি এককভাবে নতুন ধরনের প্রচারণা চালিয়েছিলেন। অথচ বড় দলের সঙ্গে জোট করার কারণ হিসেবে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সামান্তার কাছে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গণঅভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা ও অধিকার উপেক্ষার অভিযোগ

এনসিপির সঙ্গে মতপার্থক্যের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা, রাজনৈতিক অধিকার ও নেতৃত্বের প্রশ্ন তুলে ধরেছেন সামান্তা। তাঁর মতে, আন্দোলনে নারীরা শুধু অংশগ্রহণকারী ছিলেন না; তাঁরা সম্মুখসারির যোদ্ধা, অনুঘটক ও রক্ষাকর্তা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, নারীদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ন্যায্য হিস্যা এবং বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান আন্দোলনে তাঁদের অংশগ্রহণের অন্যতম ভিত্তি ছিল। ব্যারিকেডের সামনে নারীদের সাহসী উপস্থিতি গণঅভ্যুত্থানকে সার্বজনীন রূপ দিয়েছিল।

তবে বিজয়ের পর পুরোনো রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের আন্দোলনের অর্জন থেকে সরিয়ে দিতে সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সময় যেসব সামাজিক বাধা নারীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে পারেনি, বিজয়ের পর সেগুলোকেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

সামান্তার মতে, এনসিপির সামনে নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগ ছিল। শুধু নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সাংগঠনিক ক্ষমতায় তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দলটি সেই পথ অনুসরণ করেনি।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা মানে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে রাখা। বাংলাদেশের বাস্তবতায় নারীদের এগিয়ে নিতে ইতিবাচক বৈষম্য, বিশেষ সুযোগ, অধিক প্রতিনিধিত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পক্ষেও মত দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জামায়াত ও অতি-ডানপন্থী শক্তির রক্ষণশীল অবস্থানের সমালোচনা করে সামান্তার অভিযোগ, এনসিপিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানের অনুসারী ও সহযোগী হয়ে উঠেছে। এতে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীবিরোধী অবস্থান জায়গা করে নিয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্নও তুলেছেন তিনি—আন্দোলনের সময় নারীদের সামনে রাখা কি তাঁদের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সক্ষমতার স্বীকৃতি ছিল, নাকি বিপদের মুখে তাঁদের উপস্থিতিকে নিরাপত্তাবলয় হিসেবে ব্যবহারের কৌশল? তাঁর মতে, আন্দোলনের প্রয়োজনে নারীদের সাহস ও ত্যাগ গ্রহণ করলেও বিজয়ের পর তাঁদের ক্ষমতা ও ন্যায্য হিস্যা অস্বীকার করা হলে তাঁদের অংশগ্রহণের প্রকৃত স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি পুনর্গঠনের সমালোচনা

এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা। তাঁর মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক দল প্রত্যাশা করেছিল, যার নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা পুরোনো দলগুলোর চেয়ে আলাদা হবে।

পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, পরিবারতন্ত্র, পদ-পদবি বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব, আর্থিক অস্বচ্ছতা, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা এবং ভিন্নমত দমনের প্রবণতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সামান্তার মতে, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন। কাউন্সিল না হলে নেতৃত্বের বৈধতা, জবাবদিহি ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

তিনি অভিযোগ করেন, কাউন্সিল আয়োজন না করে পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করায় এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্রে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতো প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে দলটি। নেতৃত্ব নির্বাচনের আগেই বড় ধরনের রদবদল দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে নেতৃত্বের উদাসীনতা প্রকাশ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর প্রশ্ন, যে দল নিজের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না, সেই দলের পক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা সম্ভব?

দীর্ঘ পোস্টের শেষাংশে সামান্তা জানান, দলের সঙ্গে তাঁর এতদিনের মতপার্থক্য ও আলোচনার বিষয়গুলো শুধু দলীয় সদস্যদের নয়, দলের বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের সামনেও তুলে ধরতে চান। তাঁর মতে, পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার দলগুলো নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সহায়ক না হয়ে বরং বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই উপলব্ধি থেকেই এনসিপির সঙ্গে রাজনৈতিক পথচলার ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন, জামায়াতের সঙ্গে জোট ও বিস্তর অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান, জামায়াতের সঙ্গে জোটের উদ্যোগ, নির্বাচনী কৌশল, নারীর অধিকার এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও মতপার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

পোস্টে সামান্তা জানান, প্রায় এক বছর আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি দলের নেতৃত্বের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। তাঁর অবস্থান ছিল, নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো বিবেচনাতেই জামায়াত এনসিপির মিত্র হতে পারে না। এ ধরনের জোটের জন্য দলকে রাজনৈতিকভাবে বড় মূল্য দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।

সামান্তার ভাষ্য, গত ১১ মাসে দলের অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব দিয়েছেন। আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, কোনো রাজনৈতিক সংগঠন ভুল পথে এগোলে সেটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা সদস্যদের দায়িত্ব। সেই বিবেচনা থেকেই তিনি দলের ভেতরে মতাদর্শিক লড়াই চালিয়ে গেছেন।

তবে প্রায় এক বছরের সেই প্রচেষ্টার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, এনসিপি আর প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের প্রতি আন্তরিক থাকতে পারবে না। ভবিষ্যতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগ করলেও পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি গড়ে তোলার সক্ষমতা দলটির থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।

সংস্কারের রাজনীতিতে জামায়াতকে মিত্র মনে করেন না

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সামান্তা প্রথমেই প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনীতিতে জামায়াত আদৌ কোনো সহযোগী হতে পারে কি না। তাঁর মতে, এনসিপির রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার। এ জন্য সাংবিধানিক সংস্কার, আইনের সংস্কার এবং রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার—এই তিনটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রয়োজন।

সামান্তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী এই তিন ক্ষেত্রের কোনো সংস্কারকেই নিজেদের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রয়োজন থেকেই দলটি সংস্কারের কথা বলছে বলে মনে করেন তিনি।

জামায়াতের দার্শনিক ভিত্তি ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাকে গণতান্ত্রিক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন সামান্তা। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই দলটির রাজনৈতিক অভিপ্রায়। এ ছাড়া ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি।

তাঁর মতে, এনসিপি জামায়াতকে সংস্কারের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করায় উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে দলটিকে জামায়াতের সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে।

নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নেতৃত্বের সমালোচনা

২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে এনসিপির কৌশল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সামান্তা শারমিন। তাঁর মতে, নির্বাচনটি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের উপলক্ষ হতে পারত। অতীতে ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচন অনেক সময় রাষ্ট্র ও রাজনীতির গতিপথ বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

সামান্তার অভিযোগ, পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো ২০২৬ সালের নির্বাচনকে গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক চরিত্র থেকে সরিয়ে কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচনে পরিণত করতে চেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপির সামনে পুরোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শক্তিগুলোর সঙ্গে জোট গঠন অথবা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল।

তিনি দাবি করেন, ঐকমত্য কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ব্যর্থ হওয়ার পরও এনসিপি চাইলে ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল নিতে পারত। সে পথে এগোলে নির্বাচনের ফলাফলের বাইরেও দলটির রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ ছিল।

সামান্তা জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের মতো নির্বাচনী কৌশলে অংশ না নিয়েও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পাঁচটি পদ্ধতি তিনি নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব তা অনুসরণ করেনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে নির্বাচনী জয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সংস্কারবিহীন ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে আপত্তি জানানোর নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানও দুর্বল হয়েছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তার প্রসঙ্গে শহীদ ওসমান হাদির প্রচারণার উদাহরণ টেনেছেন তিনি। সামান্তার বক্তব্য, ঢাকার একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে ন্যূনতম ৫০০ ভোট পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে ওসমান হাদি এককভাবে নতুন ধরনের প্রচারণা চালিয়েছিলেন। অথচ বড় দলের সঙ্গে জোট করার কারণ হিসেবে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সামান্তার কাছে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গণঅভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা ও অধিকার উপেক্ষার অভিযোগ

এনসিপির সঙ্গে মতপার্থক্যের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা, রাজনৈতিক অধিকার ও নেতৃত্বের প্রশ্ন তুলে ধরেছেন সামান্তা। তাঁর মতে, আন্দোলনে নারীরা শুধু অংশগ্রহণকারী ছিলেন না; তাঁরা সম্মুখসারির যোদ্ধা, অনুঘটক ও রক্ষাকর্তা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, নারীদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ন্যায্য হিস্যা এবং বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান আন্দোলনে তাঁদের অংশগ্রহণের অন্যতম ভিত্তি ছিল। ব্যারিকেডের সামনে নারীদের সাহসী উপস্থিতি গণঅভ্যুত্থানকে সার্বজনীন রূপ দিয়েছিল।

তবে বিজয়ের পর পুরোনো রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের আন্দোলনের অর্জন থেকে সরিয়ে দিতে সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সময় যেসব সামাজিক বাধা নারীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে পারেনি, বিজয়ের পর সেগুলোকেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

সামান্তার মতে, এনসিপির সামনে নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগ ছিল। শুধু নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সাংগঠনিক ক্ষমতায় তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দলটি সেই পথ অনুসরণ করেনি।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা মানে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে রাখা। বাংলাদেশের বাস্তবতায় নারীদের এগিয়ে নিতে ইতিবাচক বৈষম্য, বিশেষ সুযোগ, অধিক প্রতিনিধিত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পক্ষেও মত দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জামায়াত ও অতি-ডানপন্থী শক্তির রক্ষণশীল অবস্থানের সমালোচনা করে সামান্তার অভিযোগ, এনসিপিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানের অনুসারী ও সহযোগী হয়ে উঠেছে। এতে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীবিরোধী অবস্থান জায়গা করে নিয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্নও তুলেছেন তিনি—আন্দোলনের সময় নারীদের সামনে রাখা কি তাঁদের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সক্ষমতার স্বীকৃতি ছিল, নাকি বিপদের মুখে তাঁদের উপস্থিতিকে নিরাপত্তাবলয় হিসেবে ব্যবহারের কৌশল? তাঁর মতে, আন্দোলনের প্রয়োজনে নারীদের সাহস ও ত্যাগ গ্রহণ করলেও বিজয়ের পর তাঁদের ক্ষমতা ও ন্যায্য হিস্যা অস্বীকার করা হলে তাঁদের অংশগ্রহণের প্রকৃত স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি পুনর্গঠনের সমালোচনা

এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা। তাঁর মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক দল প্রত্যাশা করেছিল, যার নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা পুরোনো দলগুলোর চেয়ে আলাদা হবে।

পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, পরিবারতন্ত্র, পদ-পদবি বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব, আর্থিক অস্বচ্ছতা, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা এবং ভিন্নমত দমনের প্রবণতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সামান্তার মতে, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন। কাউন্সিল না হলে নেতৃত্বের বৈধতা, জবাবদিহি ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

তিনি অভিযোগ করেন, কাউন্সিল আয়োজন না করে পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করায় এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্রে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতো প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে দলটি। নেতৃত্ব নির্বাচনের আগেই বড় ধরনের রদবদল দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে নেতৃত্বের উদাসীনতা প্রকাশ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর প্রশ্ন, যে দল নিজের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না, সেই দলের পক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা সম্ভব?

দীর্ঘ পোস্টের শেষাংশে সামান্তা জানান, দলের সঙ্গে তাঁর এতদিনের মতপার্থক্য ও আলোচনার বিষয়গুলো শুধু দলীয় সদস্যদের নয়, দলের বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের সামনেও তুলে ধরতে চান। তাঁর মতে, পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার দলগুলো নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সহায়ক না হয়ে বরং বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই উপলব্ধি থেকেই এনসিপির সঙ্গে রাজনৈতিক পথচলার ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।