ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানলেই বাড়বে ইলিশ, লাভবান হবেন জেলেরাই: টুকু

মাদারীপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, এই কয়েক দিনের কষ্টকে ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। নিষেধাজ্ঞা ঠিকভাবে মানা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে, যার দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবেন জেলেরাই।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে সচেতনতা সভা ও জেলে পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। এর প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই অমান্য করা যাবে না।

৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ে নদীতে কেউ যাতে ইলিশ ধরতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মাদারীপুর ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। পদ্মা নদীতে সুস্বাদু রুপালি ইলিশ পাওয়া যায়। ইলিশের উৎপাদন বাড়লে এর সুফল সবচেয়ে বেশি পাবেন জেলেরাই।

তিনি বলেন, মাত্র ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে মাছের উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে ভবিষ্যতে জেলেদের আয় ও সম্পদও বাড়বে। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়টাকে সাময়িক কষ্ট হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলাশয় উন্মুক্ত থাকবে—‘জাল যার, জলা তার’। সরকার জেলেদের পাশে রয়েছে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট কমাতে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেরাই এর সুফল পাবেন।

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার আগে বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে কাজ করছেন। দেশের উন্নয়ন হলে এর সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাবীব খান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার।

এ সময় শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান, মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী নাদিরা চৌধুরী মিঠুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, জেলে ও ভিজিএফের উপকারভোগীরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে ১৫১টি জেলে পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানলেই বাড়বে ইলিশ, লাভবান হবেন জেলেরাই: টুকু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, এই কয়েক দিনের কষ্টকে ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। নিষেধাজ্ঞা ঠিকভাবে মানা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে, যার দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবেন জেলেরাই।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে সচেতনতা সভা ও জেলে পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। এর প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই অমান্য করা যাবে না।

৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ে নদীতে কেউ যাতে ইলিশ ধরতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মাদারীপুর ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। পদ্মা নদীতে সুস্বাদু রুপালি ইলিশ পাওয়া যায়। ইলিশের উৎপাদন বাড়লে এর সুফল সবচেয়ে বেশি পাবেন জেলেরাই।

তিনি বলেন, মাত্র ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে মাছের উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে ভবিষ্যতে জেলেদের আয় ও সম্পদও বাড়বে। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়টাকে সাময়িক কষ্ট হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলাশয় উন্মুক্ত থাকবে—‘জাল যার, জলা তার’। সরকার জেলেদের পাশে রয়েছে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট কমাতে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেরাই এর সুফল পাবেন।

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার আগে বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে কাজ করছেন। দেশের উন্নয়ন হলে এর সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাবীব খান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার।

এ সময় শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান, মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী নাদিরা চৌধুরী মিঠুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, জেলে ও ভিজিএফের উপকারভোগীরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে ১৫১টি জেলে পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।