ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলায় কফ জমে অস্বস্তি? পিঁয়াজের এই পানীয় দিতে পারে স্বস্তি

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঋতু বদলের সঙ্গে অনেকেরই শুরু হয় গলা খুসখুস, নাক বন্ধ, ঢোক গিলতে অস্বস্তি কিংবা গলায় কফ জমার সমস্যা। কখনো এমনও হয়, গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি থেকে বারবার গলা পরিষ্কার করতে হয়। এতে কথা বলা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানো—সবকিছুতেই অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

এ সময় গরম পানীয় বা চায়ের দিকে ঝোঁকেন অনেকেই। তবে ঘরোয়া উপায় হিসেবে পিঁয়াজ, মধু ও অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি একটি পানীয় গলার অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

কীভাবে তৈরি করবেন এই পানীয়? আর এর উপকরণগুলোর সম্ভাব্য উপকারই বা কী? জেনে নেওয়া যাক।

যেভাবে তৈরি করবেন

এই পানীয় বানাতে লাগবে— ১টি পিঁয়াজ, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ২ টেবিল চামচ মধু।

প্রথমে পিঁয়াজ মোটা করে গোল চাকতির মতো কেটে নিন। এরপর কয়েক মিনিট পানিতে ফুটিয়ে নিন। পিঁয়াজ সেদ্ধ হয়ে গেলে পানি ছেঁকে একটি পরিষ্কার পাত্রে রাখুন।

এবার সেই পিঁয়াজের পানিতে অলিভ অয়েল ও মধু মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন। এরপর অল্প অল্প করে পান করতে পারেন।

পিঁয়াজ কেন ব্যবহার করা হয়?

পিঁয়াজে সালফারযুক্ত কিছু যৌগ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে কুয়েরসেটিন অন্যতম। এসব উপাদানের প্রদাহ কমানোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

গলা বা শ্বাসনালিতে হালকা জ্বালা ও অস্বস্তি থাকলে পিঁয়াজের কিছু উপাদান তা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। পিঁয়াজে থাকা কিছু যৌগের জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে।

তবে গলায় কফ জমলেই যে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাই এই পানীয়কে কোনো সংক্রমণের চিকিৎসা হিসেবেও দেখা যাবে না।

অলিভ অয়েল কীভাবে সাহায্য করতে পারে?

মিশ্রণে অলিভ অয়েলের ভূমিকা মূলত গলায় আরাম দেওয়ার ক্ষেত্রে। এটি গলার শুষ্কতা বা খুসখুসে ভাব কিছুটা কমাতে পারে।

অলিভ অয়েলে থাকা ওলিওক্যানথাল নামের একটি যৌগের প্রদাহ কমানোর সম্ভাব্য ক্ষমতা রয়েছে। তবে এর উপকার কতটা হবে, তা তেলের ধরন ও মানের ওপর নির্ভর করতে পারে।

মধুও রাখতে পারেন মিশ্রণে

পিঁয়াজের ঝাঁঝালো স্বাদ কমানোর পাশাপাশি মধুও গলার অস্বস্তি প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গলা খুসখুস বা হালকা জ্বালাভাব থাকলে মধু কিছুটা আরাম দিতে পারে।

তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

পিঁয়াজের এই পানীয় একটি ঘরোয়া উপায় মাত্র, চিকিৎসার বিকল্প নয়। গলায় কফ বা ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কিংবা জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, রক্তসহ কফ বা গিলতে সমস্যা দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।

এ ধরনের উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গলায় কফ জমে অস্বস্তি? পিঁয়াজের এই পানীয় দিতে পারে স্বস্তি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ঋতু বদলের সঙ্গে অনেকেরই শুরু হয় গলা খুসখুস, নাক বন্ধ, ঢোক গিলতে অস্বস্তি কিংবা গলায় কফ জমার সমস্যা। কখনো এমনও হয়, গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি থেকে বারবার গলা পরিষ্কার করতে হয়। এতে কথা বলা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানো—সবকিছুতেই অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

এ সময় গরম পানীয় বা চায়ের দিকে ঝোঁকেন অনেকেই। তবে ঘরোয়া উপায় হিসেবে পিঁয়াজ, মধু ও অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি একটি পানীয় গলার অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

কীভাবে তৈরি করবেন এই পানীয়? আর এর উপকরণগুলোর সম্ভাব্য উপকারই বা কী? জেনে নেওয়া যাক।

যেভাবে তৈরি করবেন

এই পানীয় বানাতে লাগবে— ১টি পিঁয়াজ, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ২ টেবিল চামচ মধু।

প্রথমে পিঁয়াজ মোটা করে গোল চাকতির মতো কেটে নিন। এরপর কয়েক মিনিট পানিতে ফুটিয়ে নিন। পিঁয়াজ সেদ্ধ হয়ে গেলে পানি ছেঁকে একটি পরিষ্কার পাত্রে রাখুন।

এবার সেই পিঁয়াজের পানিতে অলিভ অয়েল ও মধু মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন। এরপর অল্প অল্প করে পান করতে পারেন।

পিঁয়াজ কেন ব্যবহার করা হয়?

পিঁয়াজে সালফারযুক্ত কিছু যৌগ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে কুয়েরসেটিন অন্যতম। এসব উপাদানের প্রদাহ কমানোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

গলা বা শ্বাসনালিতে হালকা জ্বালা ও অস্বস্তি থাকলে পিঁয়াজের কিছু উপাদান তা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। পিঁয়াজে থাকা কিছু যৌগের জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে।

তবে গলায় কফ জমলেই যে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাই এই পানীয়কে কোনো সংক্রমণের চিকিৎসা হিসেবেও দেখা যাবে না।

অলিভ অয়েল কীভাবে সাহায্য করতে পারে?

মিশ্রণে অলিভ অয়েলের ভূমিকা মূলত গলায় আরাম দেওয়ার ক্ষেত্রে। এটি গলার শুষ্কতা বা খুসখুসে ভাব কিছুটা কমাতে পারে।

অলিভ অয়েলে থাকা ওলিওক্যানথাল নামের একটি যৌগের প্রদাহ কমানোর সম্ভাব্য ক্ষমতা রয়েছে। তবে এর উপকার কতটা হবে, তা তেলের ধরন ও মানের ওপর নির্ভর করতে পারে।

মধুও রাখতে পারেন মিশ্রণে

পিঁয়াজের ঝাঁঝালো স্বাদ কমানোর পাশাপাশি মধুও গলার অস্বস্তি প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গলা খুসখুস বা হালকা জ্বালাভাব থাকলে মধু কিছুটা আরাম দিতে পারে।

তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

পিঁয়াজের এই পানীয় একটি ঘরোয়া উপায় মাত্র, চিকিৎসার বিকল্প নয়। গলায় কফ বা ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কিংবা জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, রক্তসহ কফ বা গিলতে সমস্যা দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।

এ ধরনের উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।