অটোগ্যাসে এক লাফে প্রায় ১২ টাকা, নতুন দরে বাড়বে পরিবহন ব্যয়?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম এক লাফে প্রায় ১২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন দরে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সরাসরি পড়তে পারে পরিবহন খাতে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অটোগ্যাস ও এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
একসঙ্গে কেন বাড়ল অটোগ্যাসের দাম?
নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, অটোগ্যাসের দাম হঠাৎ এতটা বাড়ার পেছনে কী কারণ কাজ করেছে। বিইআরসির নির্ধারিত নতুন দরে প্রতি লিটারে বেড়েছে ১১ টাকা ৫৩ পয়সা। অর্থাৎ আগের তুলনায় জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেল।
অটোগ্যাস মূলত সিএনজির বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনে ব্যবহৃত হয়। ফলে এ জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু গ্যাস স্টেশনের বিক্রয়মূল্যেই এর প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়; পরিবহন পরিচালনার ব্যয়ও বাড়তে পারে।
শেষ পর্যন্ত চাপটা পড়বে কার ওপর?
অটোগ্যাসের দাম বৃদ্ধির সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনের মালিকদের ওপর। জ্বালানি খরচ বেড়ে গেলে পরিবহন মালিকদের পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে। আর সেই বাড়তি ব্যয় ভাড়া বা পণ্য পরিবহনের খরচের মাধ্যমে যাত্রী ও ভোক্তাদের ওপর চাপানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বিশেষ করে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে অটোগ্যাসের ব্যবহার থাকায় নতুন দরের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। জ্বালানির ব্যয় বাড়ার সঙ্গে পরিবহন খাতে নতুন করে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি উঠবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শুধু অটোগ্যাস নয়, নজরে এলপিজির নতুন দরও
বিইআরসি একই বিজ্ঞপ্তিতে এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্যও ঘোষণা করেছে। ফলে যানবাহনের জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এলপিজির বাজারেও নতুন দরের প্রভাব পড়বে।
তবে অটোগ্যাসের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ—প্রতি লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ার পর পরিবহন খাতে এর প্রভাব কতটা পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা কার ঘাড়ে গিয়ে পড়বে।
নতুন দর রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হওয়ায় এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বাজারে পড়তে শুরু করার কথা। এখন নজর থাকবে পরিবহন মালিক, চালক ও ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়ার দিকে এবং এই মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, সেদিকে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা যা বলছেন
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ার প্রভাব শুধু যানবাহনের জ্বালানি ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন খাতের পরিচালন ব্যয় বাড়লে তার একটি অংশ ভাড়া ও পণ্য পরিবহন খরচের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়তে পারে।
তাদের মতে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। যানবাহনের ব্যয় বাড়লে যাত্রী পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দামে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে পরিবহন খাতে অটোগ্যাসের ব্যবহার, যানবাহনের ধরন এবং বাড়তি জ্বালানি ব্যয় ব্যবসা ও পরিবহন মালিকরা কীভাবে সমন্বয় করেন তার ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানির নতুন দর ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়; এর প্রভাব পরিবহন ভাড়া, পণ্য পরিবহন ব্যয় এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর কীভাবে পড়ছে, সেটিও নজরদারির মধ্যে রাখা প্রয়োজন।



























