ঢাকা ০৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়শংকর-রিয়াজ বৈঠকে গুরুত্ব পেল ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত দেড় থেকে দুই বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নানা পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ও পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।

এরই মধ্যে দিল্লিতে বাংলাদেশের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রিয়াজ হামিদুল্লাহর দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন জয়শংকর। রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর অবদানের জন্য অভিনন্দনও জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করে রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ১৮ মাসের দায়িত্বকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। পারস্পরিক আস্থা, মর্যাদা ও অভিন্ন স্বার্থকে এ প্রচেষ্টার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, কূটনীতির প্রচলিত কাঠামোর পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক সংযোগকেও গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

দিল্লিতে দায়িত্ব শেষে শিগগিরই জেনেভায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রিয়াজ হামিদুল্লাহর। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের। সম্প্রতি তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত ক্রেডেনশিয়ালস অনুমোদন করেছে ভারত সরকার।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সফর নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্রগতি হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বৈঠককে কেবল আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সাক্ষাৎ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে মতবিনিময় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রিয়াজ হামিদুল্লাহর দায়িত্বের সমাপ্তি এবং নতুন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিল্লি-ঢাকার কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জয়শংকর-রিয়াজ বৈঠকে গুরুত্ব পেল ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

গত দেড় থেকে দুই বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নানা পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ও পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।

এরই মধ্যে দিল্লিতে বাংলাদেশের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রিয়াজ হামিদুল্লাহর দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন জয়শংকর। রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর অবদানের জন্য অভিনন্দনও জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করে রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ১৮ মাসের দায়িত্বকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নীরবে ও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। পারস্পরিক আস্থা, মর্যাদা ও অভিন্ন স্বার্থকে এ প্রচেষ্টার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, কূটনীতির প্রচলিত কাঠামোর পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক সংযোগকেও গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

দিল্লিতে দায়িত্ব শেষে শিগগিরই জেনেভায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রিয়াজ হামিদুল্লাহর। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের। সম্প্রতি তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত ক্রেডেনশিয়ালস অনুমোদন করেছে ভারত সরকার।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সফর নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্রগতি হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বৈঠককে কেবল আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সাক্ষাৎ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে মতবিনিময় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রিয়াজ হামিদুল্লাহর দায়িত্বের সমাপ্তি এবং নতুন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিল্লি-ঢাকার কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।