ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় ভোটে দলীয় পরিচয়ের বাইরে তাকাচ্ছে বিএনপি, গুরুত্ব পাচ্ছে জনপ্রিয়তা

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের অবস্থান দলটির প্রচলিত মনোনয়ন রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুধু দলীয় পরিচয়, সাংগঠনিক পদ বা নেতা-কর্মীদের আনুগত্যের ওপর নির্ভর না করে এলাকায় প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও সক্ষমতাকে সামনে আনার কথা বলছে দলটি। একই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের মতামতকে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে এই অবস্থানটি স্পষ্ট। তাঁর মতে, মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই থাকতে পারেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দক্ষ, যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে। অর্থাৎ স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নকে কেবল সাংগঠনিক পুরস্কার হিসেবে না দেখে জয়ের সম্ভাবনা ও স্থানীয় জনসমর্থনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

এর পেছনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, সামাজিক সম্পর্ক, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কেবল দলের প্রতীক বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন একজন প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

এ কারণেই সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা বিএনপির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বাস্তবে এই মতামত কীভাবে নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের মতামত, সম্ভাব্য প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই এবং দলের সাংগঠনিক বিবেচনা—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে করা হবে, সেটিই হবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বড় পরীক্ষা।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বক্তব্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শুধু নির্বাচনী কাঠামো হিসেবে নয়, জনগণের সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার একটি রাজনৈতিক বার্তাও পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাম সরকারকে শক্তিশালী করা এবং ‘শাসন’ থেকে ‘সেবা’র দিকে যাওয়ার কথা বলার অর্থ হলো স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিক সেবার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করার প্রত্যাশা।

প্রার্থী বাছাইয়ে আধুনিক চিন্তাধারার ও বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়ার কথাও এই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে বিএনপি স্থানীয় সরকারে অপেক্ষাকৃত নতুন ও দক্ষ মুখ আনার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্থানীয় ভোটে দলীয় পরিচয়ের বাইরে তাকাচ্ছে বিএনপি, গুরুত্ব পাচ্ছে জনপ্রিয়তা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের অবস্থান দলটির প্রচলিত মনোনয়ন রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুধু দলীয় পরিচয়, সাংগঠনিক পদ বা নেতা-কর্মীদের আনুগত্যের ওপর নির্ভর না করে এলাকায় প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও সক্ষমতাকে সামনে আনার কথা বলছে দলটি। একই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের মতামতকে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে এই অবস্থানটি স্পষ্ট। তাঁর মতে, মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই থাকতে পারেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দক্ষ, যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে। অর্থাৎ স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নকে কেবল সাংগঠনিক পুরস্কার হিসেবে না দেখে জয়ের সম্ভাবনা ও স্থানীয় জনসমর্থনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

এর পেছনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, সামাজিক সম্পর্ক, স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কেবল দলের প্রতীক বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন একজন প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

এ কারণেই সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা বিএনপির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বাস্তবে এই মতামত কীভাবে নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের মতামত, সম্ভাব্য প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই এবং দলের সাংগঠনিক বিবেচনা—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে করা হবে, সেটিই হবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বড় পরীক্ষা।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বক্তব্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শুধু নির্বাচনী কাঠামো হিসেবে নয়, জনগণের সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার একটি রাজনৈতিক বার্তাও পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাম সরকারকে শক্তিশালী করা এবং ‘শাসন’ থেকে ‘সেবা’র দিকে যাওয়ার কথা বলার অর্থ হলো স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কেবল রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিক সেবার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করার প্রত্যাশা।

প্রার্থী বাছাইয়ে আধুনিক চিন্তাধারার ও বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়ার কথাও এই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে বিএনপি স্থানীয় সরকারে অপেক্ষাকৃত নতুন ও দক্ষ মুখ আনার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠবে।