অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলবে ৩ মাসের বকেয়া, কাল থেকে শুরু পে ফিক্সেশন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এরপর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হবে।
তবে প্রত্যেক চাকরিজীবী কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখের ওপর নির্ভর করবে বকেয়ার পরিমাণ।
অনলাইনে দিতে হবে চাকরির তথ্য
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে। এ জন্য চাকরিজীবীদের নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করে নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।
এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও যাচাই করতে হবে।
কারও পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথিও প্রস্তুত রাখতে হবে।
বিশেষ করে নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
কত বকেয়া পাবেন, নির্ধারণ হবে পে ফিক্সেশনে
অর্থ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, বেতন নির্ধারণ শেষ হলে তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া একসঙ্গে দেওয়া হবে। তবে বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর নতুন বেতন নির্ধারণের ওপর।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে মূল বেতন ছিল, সেটিকে ভিত্তি ধরে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে। পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ৭০ শতাংশ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।
চলতি অর্থবছরে দুই ধাপে মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দিতে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।
তথ্য যাচাই করবে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
অনলাইনে চাকরিজীবীর তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য বা নথিতে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
অর্থাৎ, অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই প্রক্রিয়া শেষ হবে না। আগের চাকরির ইতিহাস, পদোন্নতি ও বেতন নির্ধারণের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল থাকতে হবে।
বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন বিল তৈরি হবে। একই সঙ্গে বকেয়া পাওনার হিসাবও চূড়ান্ত করা হবে।
নতুন কাঠামোয় জটিলতা টাইম স্কেল-উচ্চতর গ্রেডে
নতুন বেতন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তবে আগের বেতনকাঠামোয় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। অর্থ বিভাগ এসব বিষয় সমাধানের কাজ করছে।
আদেশ অনুযায়ী, আগের কাঠামোয় একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে একবার উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্তির পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
ফলে আগামী ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে বেতন নির্ধারণের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে। এসব তথ্য সঠিক থাকলেই নতুন বেতন ও বকেয়া পাওনার হিসাব নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হবে।


























