বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ, সম্মাননা পাচ্ছেন ১০০ গুণী শিক্ষক
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষকদের অবদান স্মরণ, তাদের যথাযথ সম্মান ও পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই আজ ৫ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ইউনেসকোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য—‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন।’
২০২৬ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এ বছর পূর্ণ হচ্ছে শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক সুপারিশমালার ৬০ বছর। ওই সুপারিশে শিক্ষকদের অধিকার ও দায়িত্ব, পেশাগত প্রস্তুতি, নিয়োগ, কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষাদানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতিসহ নানা পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে শিক্ষকতার পেশায়। ফলে শিক্ষকদের সামাজিক, পেশাগত ও অর্থনৈতিক মর্যাদা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা ১০০ শিক্ষককে
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এবার দেশের বিভিন্ন স্তরের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই এবার সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
সম্মাননার তালিকায় রয়েছেন— প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০ জন,কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন, মেডিক্যাল কলেজে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ জন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় ৫ জন।
সব মিলিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পাচ্ছেন ১০০ জন গুণী শিক্ষক।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পৃথক অনুসন্ধান কমিটি গুণী শিক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করে। পরে জাতীয় পরিচালনা কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ১০০ জন শিক্ষক নির্বাচন করে।
বাংলাদেশে দিবস পালনের উদ্যোগ
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে। ২০২২ সালে দেশব্যাপী দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার বার্ষিক ক্যালেন্ডারে ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ইউনেসকোর মতে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস শুধু শিক্ষকদের সম্মান জানানোর আনুষ্ঠানিক দিন নয়; বরং এ দিন শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার, কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
১৯৬৬ থেকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর। ওই দিন প্যারিসে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউনেসকোর যৌথ বিশেষ সম্মেলনে শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সুপারিশমালা গৃহীত হয়।
এর ২৮ বছর পর, ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর আলাদা প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে শিক্ষকদের ভূমিকা, অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ সামনে আনা হয়।
এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের বৈশ্বিক আয়োজন হচ্ছে ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেসকোর সদর দপ্তরে। সেখানে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। একই অনুষ্ঠানে শিক্ষক উন্নয়নে ইউনেসকো-হামদান পুরস্কার দেওয়া হবে।
বাংলাদেশেও জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবার ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের শিক্ষকদের অবদানকে আরও বিস্তৃত পরিসরে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
























