ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২.৭ বছর

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৭ বছর। একই সময়ে ভারতে গড় আয়ু ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৮ দশমিক ২ বছর।

শুক্রবার প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’ প্রতিবেদনে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের মানুষের গড় আয়ু, সুস্থ জীবনযাপনের সময়, মৃত্যুর কারণ এবং বিভিন্ন রোগের প্রভাবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭৩ দশমিক ৩ বছর। সে হিসাবে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রায় শূন্য দশমিক ৬ বছর কম। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে পুরুষের গড় আয়ু ৭১ দশমিক ১ বছর। বিপরীতে নারীদের গড় আয়ু ৭৪ দশমিক ৪ বছর। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা গড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৩ বছর বেশি বাঁচেন।

তবে করোনা মহামারির প্রভাব বাংলাদেশের গড় আয়ুতেও পড়েছিল। ২০১৯ সালে দেশে গড় আয়ু ছিল ৭৩ দশমিক ৪ বছর। ২০২০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ১ বছরে। পরের বছর ২০২১ সালে আরও কমে হয় ৭২ দশমিক ২ বছর। এরপর ২০২২ সালে সামান্য বেড়ে ৭২ দশমিক ৫ বছর এবং ২০২৩ সালে ৭২ দশমিক ৭ বছরে পৌঁছায়।

অবশ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবের সঙ্গে ডব্লিউএইচওর তথ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। বিবিএসের ২০২৩ সালের বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অনুযায়ী, ওই বছর দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৩ বছর। ২০২২ সালে যা ছিল ৭২ দশমিক ৪ বছর।

বৈশ্বিক গড় আয়ু বেড়েছে, তবে সুস্থ জীবনের সময় নয়

ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর। করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালে তা কমে ৭১ দশমিক ৫ বছরে নেমেছিল। পরবর্তী সময়ে আবার গড় আয়ু বাড়তে শুরু করে।

তবে বেশি দিন বেঁচে থাকলেই যে মানুষ পুরো সময় সুস্থ থাকছেন, এমন নয়। ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রত্যাশিত সুস্থ জীবনযাপনের গড় সময় ছিল ৬২ দশমিক ৮ বছর, যা ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো শূন্য দশমিক ৪ বছর কম।

অর্থাৎ গড় আয়ু ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১০ বছরের ব্যবধান রয়েছে। এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে প্রত্যেক মানুষ জীবনের শেষ সাড়ে ১০ বছর অসুস্থ থাকেন। রোগ বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে সুস্বাস্থ্যে না কাটানো সময়ের সামগ্রিক হিসাব থেকেই এই সূচক নির্ধারণ করা হয়।

ডব্লিউএইচওর ডেটা, ডিজিটাল হেলথ, অ্যানালিটিকস অ্যান্ড এআই বিভাগের পরিচালক অ্যালেইন ল্যাবরিক বলেন, মানুষের দীর্ঘায়ু জনস্বাস্থ্যের বড় অর্জন। তবে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাড়তি এই বছরগুলো মানুষ কতটা সুস্থভাবে কাটাতে পারছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা কতটা পূরণ করতে পারছে।

মৃত্যুর প্রধান কারণ এখন অসংক্রামক রোগ

প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর ধরনেও বড় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ২০০০ সালে বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অসংক্রামক রোগ। ২০২৩ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে।

২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি মৃত্যুর কারণের আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ। ওই বছর বিশ্বে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে শীর্ষ ১০টি কারণে মারা যান প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যা মোট মৃত্যুর ৫৪ শতাংশ।

মানসিক স্বাস্থ্যও নতুন করে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বে বিষণ্নতার কারণে রোগবালাই বা শারীরিক অক্ষমতার হার প্রায় ২০ শতাংশ এবং উদ্বেগজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।

২০২৩ সালে বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত সমস্যার কারণে অকালমৃত্যু ও অক্ষমতার ফলে বিশ্বে আনুমানিক ১১ কোটি বছরের সুস্থ জীবন হারিয়েছে মানুষ।

ডব্লিউএইচওর সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ হলো—করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্বে গড় আয়ু প্রায় আগের অবস্থায় ফিরলেও রোগের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সংক্রামক রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, ডিমেনশিয়া ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার বাড়তে থাকা ঝুঁকি এখন বিশ্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২.৭ বছর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৭ বছর। একই সময়ে ভারতে গড় আয়ু ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৮ দশমিক ২ বছর।

শুক্রবার প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’ প্রতিবেদনে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের মানুষের গড় আয়ু, সুস্থ জীবনযাপনের সময়, মৃত্যুর কারণ এবং বিভিন্ন রোগের প্রভাবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭৩ দশমিক ৩ বছর। সে হিসাবে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রায় শূন্য দশমিক ৬ বছর কম। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে পুরুষের গড় আয়ু ৭১ দশমিক ১ বছর। বিপরীতে নারীদের গড় আয়ু ৭৪ দশমিক ৪ বছর। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা গড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৩ বছর বেশি বাঁচেন।

তবে করোনা মহামারির প্রভাব বাংলাদেশের গড় আয়ুতেও পড়েছিল। ২০১৯ সালে দেশে গড় আয়ু ছিল ৭৩ দশমিক ৪ বছর। ২০২০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ১ বছরে। পরের বছর ২০২১ সালে আরও কমে হয় ৭২ দশমিক ২ বছর। এরপর ২০২২ সালে সামান্য বেড়ে ৭২ দশমিক ৫ বছর এবং ২০২৩ সালে ৭২ দশমিক ৭ বছরে পৌঁছায়।

অবশ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবের সঙ্গে ডব্লিউএইচওর তথ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। বিবিএসের ২০২৩ সালের বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অনুযায়ী, ওই বছর দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৩ বছর। ২০২২ সালে যা ছিল ৭২ দশমিক ৪ বছর।

বৈশ্বিক গড় আয়ু বেড়েছে, তবে সুস্থ জীবনের সময় নয়

ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর। করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালে তা কমে ৭১ দশমিক ৫ বছরে নেমেছিল। পরবর্তী সময়ে আবার গড় আয়ু বাড়তে শুরু করে।

তবে বেশি দিন বেঁচে থাকলেই যে মানুষ পুরো সময় সুস্থ থাকছেন, এমন নয়। ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রত্যাশিত সুস্থ জীবনযাপনের গড় সময় ছিল ৬২ দশমিক ৮ বছর, যা ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো শূন্য দশমিক ৪ বছর কম।

অর্থাৎ গড় আয়ু ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১০ বছরের ব্যবধান রয়েছে। এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে প্রত্যেক মানুষ জীবনের শেষ সাড়ে ১০ বছর অসুস্থ থাকেন। রোগ বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে সুস্বাস্থ্যে না কাটানো সময়ের সামগ্রিক হিসাব থেকেই এই সূচক নির্ধারণ করা হয়।

ডব্লিউএইচওর ডেটা, ডিজিটাল হেলথ, অ্যানালিটিকস অ্যান্ড এআই বিভাগের পরিচালক অ্যালেইন ল্যাবরিক বলেন, মানুষের দীর্ঘায়ু জনস্বাস্থ্যের বড় অর্জন। তবে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাড়তি এই বছরগুলো মানুষ কতটা সুস্থভাবে কাটাতে পারছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা কতটা পূরণ করতে পারছে।

মৃত্যুর প্রধান কারণ এখন অসংক্রামক রোগ

প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর ধরনেও বড় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ২০০০ সালে বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অসংক্রামক রোগ। ২০২৩ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে।

২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি মৃত্যুর কারণের আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ। ওই বছর বিশ্বে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে শীর্ষ ১০টি কারণে মারা যান প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যা মোট মৃত্যুর ৫৪ শতাংশ।

মানসিক স্বাস্থ্যও নতুন করে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বে বিষণ্নতার কারণে রোগবালাই বা শারীরিক অক্ষমতার হার প্রায় ২০ শতাংশ এবং উদ্বেগজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।

২০২৩ সালে বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত সমস্যার কারণে অকালমৃত্যু ও অক্ষমতার ফলে বিশ্বে আনুমানিক ১১ কোটি বছরের সুস্থ জীবন হারিয়েছে মানুষ।

ডব্লিউএইচওর সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ হলো—করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্বে গড় আয়ু প্রায় আগের অবস্থায় ফিরলেও রোগের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সংক্রামক রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, ডিমেনশিয়া ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার বাড়তে থাকা ঝুঁকি এখন বিশ্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।