ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাইমাইল নয়, তাঁতীবাজারে উধাও ‘পিচ্চি রাজা’; দুই পুলিশ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রিজন ভ্যান থেকে মাদক মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এতদিন গাজীপুরের বাইমাইল থেকে তার পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও প্রাথমিক তদন্তে এখন জানা গেছে, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পুলিশের হেফাজত থেকে উধাও হন তিনি।

ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। এরই মধ্যে এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি তিন সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে ফেরার পথে নিখোঁজ হন পিচ্চি রাজা।

প্রথমে পুলিশ দাবি করেছিল, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছানোর পর শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলেন পিচ্চি রাজা। পরে দায়িত্বে থাকা এক এসআই তাকে ভ্যান থেকে নামালে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। কিন্তু তদন্ত এগোনোর পর পুলিশের সেই প্রাথমিক বক্তব্যই এখন প্রশ্নের মুখে।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং ভ্যানচালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে একাধিক অসঙ্গতি।

পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যরা বলছেন, প্রিজন ভ্যানের নির্ধারিত যাত্রাপথে ইচ্ছেমতো থামার সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ভ্যান থামানোরও নিয়ম নেই। ফলে বাইমাইলে ভ্যান থামিয়ে আসামিকে নামানোর যে দাবি করা হয়েছিল, সেটি নিয়েই তদন্তকারীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান জানান, পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে—পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন।

এ ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার ও নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আসামি পালানোর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম বলেন, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তারা ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না। এমনকি আসামি কোথা থেকে পালিয়েছেন, সে বিষয়েও তাদের বক্তব্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্ত কমিটি এখন দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে—পিচ্চি রাজা আসলে কীভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং তাঁতীবাজারে তার পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল।

এদিকে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এখন প্রশ্ন—পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে তিনি প্রিজন ভ্যান থেকে বেরিয়ে গেলেন, আর কেন প্রথমে পালানোর স্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছিল?

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাইমাইল নয়, তাঁতীবাজারে উধাও ‘পিচ্চি রাজা’; দুই পুলিশ গ্রেপ্তার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রিজন ভ্যান থেকে মাদক মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এতদিন গাজীপুরের বাইমাইল থেকে তার পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও প্রাথমিক তদন্তে এখন জানা গেছে, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পুলিশের হেফাজত থেকে উধাও হন তিনি।

ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। এরই মধ্যে এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি তিন সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে ফেরার পথে নিখোঁজ হন পিচ্চি রাজা।

প্রথমে পুলিশ দাবি করেছিল, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছানোর পর শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলেন পিচ্চি রাজা। পরে দায়িত্বে থাকা এক এসআই তাকে ভ্যান থেকে নামালে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। কিন্তু তদন্ত এগোনোর পর পুলিশের সেই প্রাথমিক বক্তব্যই এখন প্রশ্নের মুখে।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং ভ্যানচালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে একাধিক অসঙ্গতি।

পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যরা বলছেন, প্রিজন ভ্যানের নির্ধারিত যাত্রাপথে ইচ্ছেমতো থামার সুযোগ নেই। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ভ্যান থামানোরও নিয়ম নেই। ফলে বাইমাইলে ভ্যান থামিয়ে আসামিকে নামানোর যে দাবি করা হয়েছিল, সেটি নিয়েই তদন্তকারীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান জানান, পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে—পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন।

এ ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার ও নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আসামি পালানোর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম বলেন, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তারা ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না। এমনকি আসামি কোথা থেকে পালিয়েছেন, সে বিষয়েও তাদের বক্তব্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্ত কমিটি এখন দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে—পিচ্চি রাজা আসলে কীভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং তাঁতীবাজারে তার পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল।

এদিকে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এখন প্রশ্ন—পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে তিনি প্রিজন ভ্যান থেকে বেরিয়ে গেলেন, আর কেন প্রথমে পালানোর স্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছিল?