ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে কম দরদাতাকে লিজ দেওয়ার অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জমি লিজ দেওয়ার টেন্ডার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম দর দেওয়া ব্যক্তিদের জমি লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছেন টেন্ডারে অংশ নেওয়া কৃষকরা।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে গত ১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ মিলের আওতাধীন সালন্দর-জামালপুর, মোহন কৃষি খামার, বোচাপুকুর, হাবিবপুর ও কহরপাড়া খামারের বিভিন্ন ব্লকের মোট ৩৭৮ দশমিক ৫০ একর জমি লিজ দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করে।

জমিগুলোতে আখ রোপণের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে আলু চাষের জন্য লিজ দেওয়ার কথা ছিল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার পর ১৪ সেপ্টেম্বর দরপত্র খোলা হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও দরদাতারা অংশ নেন।

কৃষকদের অভিযোগ, দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে একজন দরদাতা সর্বোচ্চ ১০ একর জমি লিজ নিতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কোনো দরদাতা ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলে অতিরিক্ত জমি বাদ দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ একর পর্যন্ত লিজ দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তবে ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র কেনা ও অংশ নেওয়া কৃষকদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তাদের প্রশ্ন, ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলেই যদি পুরো দরপত্র বাতিল বলে গণ্য হয়, তাহলে সেটি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি কেন?

কৃষকদের দাবি, এ কারণে অনেকেই সর্বোচ্চ দর দিয়েও জমি লিজ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগকারীরা বলছেন, কয়েকজন কৃষক জমির জন্য সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করলেও তাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম দর দেওয়া ব্যক্তিদের লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দেওয়ার কারণ কী এবং এর পেছনে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ক্ষুব্ধ কৃষকরা জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে টেন্ডারসংক্রান্ত সব কাগজপত্র ও দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রেখে পুরো টেন্ডার বাতিল এবং নতুন করে দরপত্র আহ্বানেরও দাবি করেছেন তারা।

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক শুভাস চন্দ্র সিংহ।

তিনি বলেন, ‘শুধু একটি জায়গায় ভুল হয়েছে, বাকি সব বিষয় ঠিক ছিল। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।’

তদন্তের পরই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তি কতটা রয়েছে, তা স্পষ্ট হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে কম দরদাতাকে লিজ দেওয়ার অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জমি লিজ দেওয়ার টেন্ডার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম দর দেওয়া ব্যক্তিদের জমি লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছেন টেন্ডারে অংশ নেওয়া কৃষকরা।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে গত ১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ মিলের আওতাধীন সালন্দর-জামালপুর, মোহন কৃষি খামার, বোচাপুকুর, হাবিবপুর ও কহরপাড়া খামারের বিভিন্ন ব্লকের মোট ৩৭৮ দশমিক ৫০ একর জমি লিজ দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করে।

জমিগুলোতে আখ রোপণের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে আলু চাষের জন্য লিজ দেওয়ার কথা ছিল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার পর ১৪ সেপ্টেম্বর দরপত্র খোলা হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও দরদাতারা অংশ নেন।

কৃষকদের অভিযোগ, দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে একজন দরদাতা সর্বোচ্চ ১০ একর জমি লিজ নিতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কোনো দরদাতা ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলে অতিরিক্ত জমি বাদ দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ একর পর্যন্ত লিজ দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তবে ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র কেনা ও অংশ নেওয়া কৃষকদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তাদের প্রশ্ন, ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলেই যদি পুরো দরপত্র বাতিল বলে গণ্য হয়, তাহলে সেটি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি কেন?

কৃষকদের দাবি, এ কারণে অনেকেই সর্বোচ্চ দর দিয়েও জমি লিজ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগকারীরা বলছেন, কয়েকজন কৃষক জমির জন্য সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করলেও তাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম দর দেওয়া ব্যক্তিদের লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দেওয়ার কারণ কী এবং এর পেছনে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ক্ষুব্ধ কৃষকরা জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে টেন্ডারসংক্রান্ত সব কাগজপত্র ও দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রেখে পুরো টেন্ডার বাতিল এবং নতুন করে দরপত্র আহ্বানেরও দাবি করেছেন তারা।

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক শুভাস চন্দ্র সিংহ।

তিনি বলেন, ‘শুধু একটি জায়গায় ভুল হয়েছে, বাকি সব বিষয় ঠিক ছিল। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।’

তদন্তের পরই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তি কতটা রয়েছে, তা স্পষ্ট হবে।