ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমের কুসুম খেলেই কি বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি?

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডিমকে পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। প্রোটিন, ভিটামিন ও নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস হওয়ায় শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকাতেই ডিম রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

তবে ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন রয়েছে—ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল বেশি, তাহলে এটি নিয়মিত খেলে কি হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে?

পুষ্টিবিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়াই যে সবার জন্য ভালো—এ ধারণাও সঠিক নয়।

কুসুমেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি

একটি ডিমে প্রায় ৬০ ক্যালোরি এবং প্রায় ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। ডিমের প্রোটিন শরীর সহজে গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারে বলে এটিকে উন্নতমানের প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অনেকেই মনে করেন, ডিমের সব প্রোটিন শুধু সাদা অংশে থাকে। বাস্তবে কুসুমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রোটিন রয়েছে।

ডিমের কুসুমে রয়েছে কোলিন, যা স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য কোলিন প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান।

এ ছাড়া কুসুমে লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিম থেকে ভিটামিন ডি, ফোলেট, আয়োডিন ও বিভিন্ন বি-ভিটামিনও পাওয়া যায়।

কুসুমের কোলেস্টেরল কি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর?

ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকার বিষয়টি সত্য। একটি কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকতে পারে।

তবে খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা কোলেস্টেরল এবং রক্তে থাকা কোলেস্টেরল এক বিষয় নয়। শরীর নিজেও প্রয়োজন অনুযায়ী কোলেস্টেরল তৈরি করে, যার বড় অংশ উৎপন্ন হয় যকৃতে।

খাবার থেকে কোলেস্টেরল গ্রহণ বাড়লে শরীর অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব কোলেস্টেরল উৎপাদন কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে শুধু ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল আছে বলেই সেটিকে সরাসরি হৃদরোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

তবে রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা ধমনিতে প্লাক জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু ডিম খাওয়ার বিষয়টি নয়, বরং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি।

দিনে কতটি ডিম খাওয়া যায়?

ডিম খাওয়ার পরিমাণ সবার জন্য একই নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর এটি নির্ভর করে।

সাধারণভাবে বেশিরভাগ সুস্থ মানুষ প্রতিদিন এক থেকে দুইটি ডিম খেতে পারেন। এখানে পুরো ডিম—অর্থাৎ কুসুমসহ ডিমের কথাই বলা হচ্ছে।

শিশুদের জন্যও বয়স ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী ডিম রাখা যেতে পারে। গর্ভবতী নারী কিংবা যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন অনুভব করেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিমাণ নির্ধারণে ব্যক্তিগত পুষ্টি চাহিদা বিবেচনা করা উচিত।

তবে কারও যদি উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তাহলে নিয়মিত বেশি ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

দেশি ডিম নাকি ব্রয়লার মুরগির ডিম?

খোলা পরিবেশে পালন করা মুরগির ডিম এবং পোল্ট্রি মুরগির ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যেও নানা ধারণা রয়েছে।

পুষ্টিবিশেষজ্ঞদের মতে, দুই ধরনের ডিমেই প্রায় একই ধরনের মৌলিক পুষ্টি উপাদান থাকে। তবে মুরগির খাদ্যের পার্থক্যের কারণে কিছু পুষ্টি উপাদানের পরিমাণে সামান্য তারতম্য হতে পারে।

প্রাকৃতিক খাবার খাওয়া মুরগির ডিমে কিছু ক্যারোটিনয়েড বা ওমেগা-৩ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এ কারণে এমন ডিমের কুসুমের রংও কিছুটা গাঢ় হতে দেখা যায়।

তবে শুধু কুসুমের গাঢ় রং দেখেই একটি ডিমকে অন্যটির তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

কাঁচা ডিম খাওয়া কতটা নিরাপদ?

ডিম কাঁচা খাওয়ার প্রবণতাও রয়েছে অনেকের মধ্যে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সাধারণত কাঁচা ডিম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

কাঁচা ডিমে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি থাকে। এটি খাদ্যজনিত অসুস্থতা, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ছাড়া কাঁচা ডিমে থাকা অ্যাভিডিন নামের প্রোটিন শরীরে বায়োটিন শোষণে বাধা দিতে পারে। নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে কাঁচা ডিম খেলে এ কারণে পুষ্টিগত সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ।

তাহলে কুসুম বাদ দেবেন?

ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও শুধু এ কারণে সবার কুসুম বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কুসুমে থাকা কোলিন, লুটেইন, জিয়াজ্যান্থিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে বা চিকিৎসক বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

সবশেষে বলা যায়, ডিমের কুসুমকে এককভাবে হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী করা ঠিক নয়। হৃদস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পুরো খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত ডিম, সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই সমন্বিত অভ্যাসই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডিমের কুসুম খেলেই কি বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ডিমকে পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। প্রোটিন, ভিটামিন ও নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস হওয়ায় শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকাতেই ডিম রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

তবে ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন রয়েছে—ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল বেশি, তাহলে এটি নিয়মিত খেলে কি হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে?

পুষ্টিবিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়াই যে সবার জন্য ভালো—এ ধারণাও সঠিক নয়।

কুসুমেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি

একটি ডিমে প্রায় ৬০ ক্যালোরি এবং প্রায় ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। ডিমের প্রোটিন শরীর সহজে গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারে বলে এটিকে উন্নতমানের প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অনেকেই মনে করেন, ডিমের সব প্রোটিন শুধু সাদা অংশে থাকে। বাস্তবে কুসুমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রোটিন রয়েছে।

ডিমের কুসুমে রয়েছে কোলিন, যা স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য কোলিন প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান।

এ ছাড়া কুসুমে লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিম থেকে ভিটামিন ডি, ফোলেট, আয়োডিন ও বিভিন্ন বি-ভিটামিনও পাওয়া যায়।

কুসুমের কোলেস্টেরল কি হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর?

ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকার বিষয়টি সত্য। একটি কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকতে পারে।

তবে খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা কোলেস্টেরল এবং রক্তে থাকা কোলেস্টেরল এক বিষয় নয়। শরীর নিজেও প্রয়োজন অনুযায়ী কোলেস্টেরল তৈরি করে, যার বড় অংশ উৎপন্ন হয় যকৃতে।

খাবার থেকে কোলেস্টেরল গ্রহণ বাড়লে শরীর অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব কোলেস্টেরল উৎপাদন কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে শুধু ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল আছে বলেই সেটিকে সরাসরি হৃদরোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

তবে রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা ধমনিতে প্লাক জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু ডিম খাওয়ার বিষয়টি নয়, বরং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি।

দিনে কতটি ডিম খাওয়া যায়?

ডিম খাওয়ার পরিমাণ সবার জন্য একই নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর এটি নির্ভর করে।

সাধারণভাবে বেশিরভাগ সুস্থ মানুষ প্রতিদিন এক থেকে দুইটি ডিম খেতে পারেন। এখানে পুরো ডিম—অর্থাৎ কুসুমসহ ডিমের কথাই বলা হচ্ছে।

শিশুদের জন্যও বয়স ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী ডিম রাখা যেতে পারে। গর্ভবতী নারী কিংবা যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন অনুভব করেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিমাণ নির্ধারণে ব্যক্তিগত পুষ্টি চাহিদা বিবেচনা করা উচিত।

তবে কারও যদি উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তাহলে নিয়মিত বেশি ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

দেশি ডিম নাকি ব্রয়লার মুরগির ডিম?

খোলা পরিবেশে পালন করা মুরগির ডিম এবং পোল্ট্রি মুরগির ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যেও নানা ধারণা রয়েছে।

পুষ্টিবিশেষজ্ঞদের মতে, দুই ধরনের ডিমেই প্রায় একই ধরনের মৌলিক পুষ্টি উপাদান থাকে। তবে মুরগির খাদ্যের পার্থক্যের কারণে কিছু পুষ্টি উপাদানের পরিমাণে সামান্য তারতম্য হতে পারে।

প্রাকৃতিক খাবার খাওয়া মুরগির ডিমে কিছু ক্যারোটিনয়েড বা ওমেগা-৩ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এ কারণে এমন ডিমের কুসুমের রংও কিছুটা গাঢ় হতে দেখা যায়।

তবে শুধু কুসুমের গাঢ় রং দেখেই একটি ডিমকে অন্যটির তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

কাঁচা ডিম খাওয়া কতটা নিরাপদ?

ডিম কাঁচা খাওয়ার প্রবণতাও রয়েছে অনেকের মধ্যে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সাধারণত কাঁচা ডিম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

কাঁচা ডিমে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি থাকে। এটি খাদ্যজনিত অসুস্থতা, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ছাড়া কাঁচা ডিমে থাকা অ্যাভিডিন নামের প্রোটিন শরীরে বায়োটিন শোষণে বাধা দিতে পারে। নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে কাঁচা ডিম খেলে এ কারণে পুষ্টিগত সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ।

তাহলে কুসুম বাদ দেবেন?

ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল থাকলেও শুধু এ কারণে সবার কুসুম বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কুসুমে থাকা কোলিন, লুটেইন, জিয়াজ্যান্থিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে বা চিকিৎসক বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

সবশেষে বলা যায়, ডিমের কুসুমকে এককভাবে হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী করা ঠিক নয়। হৃদস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পুরো খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত ডিম, সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই সমন্বিত অভ্যাসই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।