ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদর্শ শিক্ষক রাজেশ্বর বাবু, যার হাত ধরে গড়ে উঠেছেন অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখান, সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগান এবং জীবনের কঠিন সময়ে পথ দেখান। এমনই একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন রাজেশ্বর বাবু।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বরগুনার বামনা উপজেলার সারওয়াজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। জ্ঞান, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। সময়ের পরিক্রমায় তাঁর সেই শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

রাজেশ্বর বাবুর হাতে গড়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই আজ চিকিৎসক, সচিব, আইনজীবীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত। কেউ চিকিৎসাসেবায়, কেউ প্রশাসনে, কেউবা আইন পেশায়—নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তাঁরই শিষ্যরা। তাদের এই সাফল্যের পেছনে প্রিয় শিক্ষকের অবদানের কথা তারা আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তবে রাজেশ্বর বাবুর সঙ্গে তাঁর শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক ছিল শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নয়। শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন পাঠ দিয়েছেন, তেমনি প্রয়োজনের সময় বাবার মতো শাসন করেছেন। আবার কোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কঠোরতার আড়ালে ছিল গভীর স্নেহ, মমতা ও দায়িত্ববোধ।

শিক্ষার্থীদের কাছে তাই রাজেশ্বর বাবু ছিলেন একাধারে শিক্ষক, অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। তাঁর শাসন অনেক সময় হয়তো কঠিন মনে হতো, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই শাসনের অর্থ বুঝেছেন তাঁর ছাত্ররা। আজ তারা যখন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত, তখন উপলব্ধি করেন—সেই কঠোরতার পেছনেও ছিল তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা।

নেই মানুষটি, রয়ে গেছে স্মৃতি

আজ শিক্ষক রাজেশ্বর বাবু নেই। এক যুগেরও বেশি সময় আগে তিনি চলে গেছেন পরপারে। কিন্তু মৃত্যুর পরও তিনি হারিয়ে যাননি তাঁর শিক্ষার্থীদের স্মৃতি থেকে। সময় যত গড়িয়েছে, তাঁর স্মৃতি যেন আরও গভীর হয়েছে।

নেই তাঁর সেই দৃঢ় কণ্ঠের শাসন, নেই শ্রেণিকক্ষে তাঁর উপস্থিতি, নেই বিপদের সময়ে বাবার মতো পাশে দাঁড়ানোর সেই মানুষটি। আছে শুধু অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে জমে থাকা স্মৃতি আর তাঁর শেখানো জীবনের পাঠ।

যে মানুষটি একদিন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, আজ তাঁর সেই শিক্ষার্থীরাই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাদের সাফল্য, কর্ম ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যেই যেন বেঁচে আছেন রাজেশ্বর বাবু।

একজন শিক্ষক হয়তো একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, কিন্তু তাঁর হাতে গড়ে ওঠা মানুষগুলো থেকে যায়। তাঁদের সাফল্য, তাঁদের জীবনবোধ এবং তাঁদের স্মৃতির মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষকের জীবনকর্ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকে।

রাজেশ্বর বাবুও নেই। কিন্তু তাঁর তৈরি অসংখ্য মানুষ আজ তাঁর জীবন্ত স্মৃতি।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আদর্শ শিক্ষক রাজেশ্বর বাবু, যার হাত ধরে গড়ে উঠেছেন অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখান, সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগান এবং জীবনের কঠিন সময়ে পথ দেখান। এমনই একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন রাজেশ্বর বাবু।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বরগুনার বামনা উপজেলার সারওয়াজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। জ্ঞান, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। সময়ের পরিক্রমায় তাঁর সেই শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

রাজেশ্বর বাবুর হাতে গড়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই আজ চিকিৎসক, সচিব, আইনজীবীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত। কেউ চিকিৎসাসেবায়, কেউ প্রশাসনে, কেউবা আইন পেশায়—নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তাঁরই শিষ্যরা। তাদের এই সাফল্যের পেছনে প্রিয় শিক্ষকের অবদানের কথা তারা আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তবে রাজেশ্বর বাবুর সঙ্গে তাঁর শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক ছিল শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নয়। শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন পাঠ দিয়েছেন, তেমনি প্রয়োজনের সময় বাবার মতো শাসন করেছেন। আবার কোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর কঠোরতার আড়ালে ছিল গভীর স্নেহ, মমতা ও দায়িত্ববোধ।

শিক্ষার্থীদের কাছে তাই রাজেশ্বর বাবু ছিলেন একাধারে শিক্ষক, অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। তাঁর শাসন অনেক সময় হয়তো কঠিন মনে হতো, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই শাসনের অর্থ বুঝেছেন তাঁর ছাত্ররা। আজ তারা যখন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত, তখন উপলব্ধি করেন—সেই কঠোরতার পেছনেও ছিল তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা।

নেই মানুষটি, রয়ে গেছে স্মৃতি

আজ শিক্ষক রাজেশ্বর বাবু নেই। এক যুগেরও বেশি সময় আগে তিনি চলে গেছেন পরপারে। কিন্তু মৃত্যুর পরও তিনি হারিয়ে যাননি তাঁর শিক্ষার্থীদের স্মৃতি থেকে। সময় যত গড়িয়েছে, তাঁর স্মৃতি যেন আরও গভীর হয়েছে।

নেই তাঁর সেই দৃঢ় কণ্ঠের শাসন, নেই শ্রেণিকক্ষে তাঁর উপস্থিতি, নেই বিপদের সময়ে বাবার মতো পাশে দাঁড়ানোর সেই মানুষটি। আছে শুধু অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে জমে থাকা স্মৃতি আর তাঁর শেখানো জীবনের পাঠ।

যে মানুষটি একদিন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, আজ তাঁর সেই শিক্ষার্থীরাই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাদের সাফল্য, কর্ম ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যেই যেন বেঁচে আছেন রাজেশ্বর বাবু।

একজন শিক্ষক হয়তো একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, কিন্তু তাঁর হাতে গড়ে ওঠা মানুষগুলো থেকে যায়। তাঁদের সাফল্য, তাঁদের জীবনবোধ এবং তাঁদের স্মৃতির মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষকের জীবনকর্ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকে।

রাজেশ্বর বাবুও নেই। কিন্তু তাঁর তৈরি অসংখ্য মানুষ আজ তাঁর জীবন্ত স্মৃতি।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট