ডিএনএ নমুনা নেওয়া সেই মালয়েশীয় পর্যটক নিজেই ফিরলেন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ৩৭ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন মালয়েশিয়ার এক পর্যটক। দীর্ঘ সময় কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো আর বেঁচে নেই তিনি। এমনকি পরিচয় শনাক্তের জন্য পরিবারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল ডিএনএ নমুনাও। তবে সবাইকে অবাক করে ৩৭ দিন পর অক্ষত অবস্থায় নিজেই হাজির হলেন সেই যুবক।
বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে মালয়েশিয়া দূতাবাসে গিয়ে উপস্থিত হন তিনি। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে বিমানে মালয়েশিয়ায় ফিরে গেছেন ওই পর্যটক।
মালয়েশিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘MASFIH’ জানিয়েছে, গত ২৫ আগস্ট সর্বশেষ নাগথালি ভিউ পয়েন্ট এলাকায় ওই যুবককে দেখা গিয়েছিল। পরদিন ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস শুরু হলে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দুর্যোগের পর ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন অনেকে। এক মাসেরও বেশি সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় স্বজনরা তার মৃত্যুর আশঙ্কা করেন। পরে পরিচয় শনাক্তের প্রস্তুতি হিসেবে পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।
তবে ৩৭ দিন পর নাটকীয়ভাবে ফিরে আসেন ওই যুবক। জানা গেছে, বন্যার পর এতদিন তিনি নাগথালি এলাকাতেই ছিলেন। সেখানে কীভাবে অবস্থান করেছেন, কোথায় ছিলেন কিংবা কীভাবে সেখান থেকে কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
শেষ পর্যন্ত কোনোভাবে একাই কাঠমান্ডুতে পৌঁছে মালয়েশিয়া দূতাবাসে যান তিনি। সেখানেই কর্মকর্তারা তার পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
নেপালে গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর পানির স্রোতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
দুর্যোগে নেপালে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৬ হাজার মানুষ। তিব্বতেও শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর রয়েছে।
এদিকে, নেপালে দুর্যোগের পর ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ ছিলেন। ৩৭ দিন পর এই পর্যটকের ফিরে আসায় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে।



























