খাল দখল: প্রবেশমুখে মাদ্রাসা, মুক্তিযোদ্ধা ভবন, বাজার ও শপিং কমপ্লেক্স

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইল শহরের বুক চিরে একসময় প্রবাহিত হতো শ্যামা বাবুর খাল। নৌকায় করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল, শহরের পানি নিষ্কাশন—সবকিছুর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল এই খাল। তবে সময়ের সঙ্গে দখল ও অব্যবস্থাপনায় সেই খাল এখন প্রায় অস্তিত্বহীন। খালের জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা, সংকুচিত হয়েছে পানি প্রবাহের পথ। এর প্রভাব পড়ছে শহরের জলাবদ্ধতা ও পরিবেশের ওপর।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শহরের প্যারাডাইস পাড়া খাদ্য গুদামের কাছে লৌহজং নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া শ্যামা বাবুর খালটি একসময় টাঙ্গাইল শহরকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে পূর্ব প্রান্তের বিল ঘারিন্দায় গিয়ে মিশত। প্রায় পুরো শহরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ ছিল এটি।
জানা যায়, ১৯০০ সালের দিকে ব্রিটিশ আমলে ভিক্টোরিয়া রোড নির্মাণের অংশ হিসেবে খালটি খনন করা হয়। পরে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড খালটিকে ড্রেনে রূপান্তর করে। এরপর থেকেই শুরু হয় দখলের বিস্তার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভিক্টোরিয়া রোডের পাশে একের পর এক মার্কেট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে খালের জায়গায়।
এর মধ্যে রয়েছে পৌর সুপার মার্কেট, ক্যাপসুল মার্কেট, ভিক্টোরিয়া ফুডজোন, বিভিন্ন পৌর মার্কেট, ফায়ার সার্ভিস মার্কেটসহ আরও অনেক স্থাপনা। খালের প্রবেশমুখে মাদ্রাসা, মুক্তিযোদ্ধা ভবন, পূজা মণ্ডপ, পাইকারি বাজার এবং শহরের মাঝামাঝি অংশে হোটেল, শপিং কমপ্লেক্সসহ নানা স্থাপনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
দখলের কারণে শুধু খালের অস্তিত্বই সংকুচিত হয়নি, ভোগান্তিও বেড়েছে শহরবাসীর। বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে না পারায় সামান্য বৃষ্টিতেই টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিক্টোরিয়া রোডে যানজট ও চলাচলের সমস্যাও বাড়ছে।
প্যারাডাইস পাড়ার বাসিন্দা সুবল গৌড় ও হারাধন শীল বলেন, কয়েক দশক আগেও নৌকায় করে লৌহজং নদী হয়ে শ্যামা বাবুর খাল দিয়ে শহরের নিরালা মোড়ে আসা যেত। এখন সেই খাল পরিণত হয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত নালায়। দ্রুত খালটি উদ্ধারের দাবি জানান তারা।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন, একসময় শহরের অর্থনীতি ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই খাল। পরিকল্পনার ভুল ও দখলের কারণে এটি এখন মৃতপ্রায়। খালটি পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর বিভাগীয় কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, খাল, নদী ও জলাশয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব জলাশয় উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন জানান, টাঙ্গাইল সদরের সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে শ্যামা বাবুর খালও রয়েছে। খালটি দখলমুক্ত করে দ্রুত খননকাজ শুরু করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
শহরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত দখলমুক্ত করে শ্যামা বাবুর খালকে আবারও প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

























