তিন দিনে রাজধানীর চার স্থানে দখলচেষ্টা, অস্ত্র-ভাঙচুরে বাড়ছে উদ্বেগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীতে একের পর এক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে চারটি পৃথক ঘটনায় অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি ও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। সর্বশেষ শনিবার রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এর আগে একই দিনে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে ৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টা এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি আটতলা বাড়িতে অস্ত্রধারীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। এরও আগে বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় শুধু দখলের চেষ্টা নয়, অস্ত্র প্রদর্শন, ভাঙচুর ও লুটপাটও হয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, জমির মালিক ও প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পিস্তল-রামদা নিয়ে বাড়িতে হামলার অভিযোগ
শনিবার ভোরে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি আটতলা বাড়িতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে ছিল রামদা, চাপাতি ও পিস্তল।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাড়ির মূল ফটক খুলে তাঁদের সবাইকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। এ সময় টাকা দাবি করা হয়। পরে চাপাতি ও রামদা দিয়ে গেটে কোপানো হয়। ভাঙচুর করা হয় সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ। ইটের টুকরা ছুড়ে দ্বিতীয় তলার আরও দুটি জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
বাড়িটির মালিক ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান। তাঁর ভাতিজা মনির হোসেনের দাবি, হামলাকারীদের চারজন বাড়ির ফটকের সামনে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা এবং কিছুটা দূরে আরেকজনের হাতে পিস্তল ছিল। পিস্তলধারী ব্যক্তি অন্যদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন বলেও দাবি তাঁর।
মনির হোসেন বলেন, হামলাকারীরা বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। প্রায় পাঁচ মিনিট পর তারা চলে যায়। তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আগেও দখলের অভিযোগ
বাড়িটির বাসিন্দা মনির হোসেনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করেছিলেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও সমাধান না হওয়ায় পরে আদালতে মামলা করেন তাঁরা।
আদালতের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মনিরের ভাষ্য, গত ১২ মার্চ তাঁরা বাড়িটির দখল ফিরে পান। প্রায় চার মাস তদন্তের পর পিবিআই অভিযোগপত্রও দিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে ওই অভিযোগপত্রে কী উল্লেখ করা হয়েছে, তা তাঁরা জানেন না বলে জানান মনির।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হামলার পর থেকে তাঁরা আতঙ্কে আছেন। প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।
৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
শনিবার সকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়েও ৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শতাধিক লোক নিয়ে সেখানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে রোজ ভিলার কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
একই দিনে ক্যান্টনমেন্ট থানার নিউগ্রিন হাউজিং এলাকায় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। এর পরই কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
হামলায় স্টুডিওটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে।
মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুটপাট
রাজধানীতে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে এর আগে আলোচনায় আসে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনা।
বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আলী থানা এলাকায় অবস্থিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে একাধিক ঘটনায় প্রশ্ন
রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে হামলা, অস্ত্র প্রদর্শন, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলচেষ্টার অভিযোগ সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দিনের আলোয় কিংবা আবাসিক এলাকায় এমন ঘটনার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পৃথক এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও তদন্তের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এখন তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা, হামলায় কারা জড়িত এবং এসব ঘটনার পেছনে দখলসংক্রান্ত বিরোধই মূল কারণ কি না—তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা।





















