এআই দিয়ে নারী সেনার পরিচয়ে প্রেম, প্রবাসীর ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি তৈরি। সেই ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করা পরিচয়। এরপর নারীকণ্ঠে ফোন করে ইতালিপ্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা। শেষ পর্যন্ত অসুস্থ মায়ের কথা বলে বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা।
এমন অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা জেলা।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদের অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
যেভাবে শুরু ‘প্রেমের’ সম্পর্ক
পিবিআই জানায়, কেরানীগঞ্জের বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের ছেলে শাহাদাত খান (২২) ইতালিতে থাকেন। ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে টিটুর পরিচয় হয়।
ওই পেজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো। এআই দিয়ে তৈরি করা নারী সেনার ছবি ব্যবহার করে টিটু নিজেকে নারী সেনা হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পরে শাহাদাতের সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগের পর ইমোতে নারীকণ্ঠে কথা বলতে শুরু করেন টিটু। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এরপর শুরু হয় অর্থ নেওয়ার পালা। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়।
শাহাদাতের মায়ের কাছে নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
লেনদেনের সূত্র ধরে শনাক্ত
একপর্যায়ে শাহাদাত ও তাঁর মা বিষয়টি প্রতারণা বলে বুঝতে পারেন। পরে এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জে মামলা করা হয়।
তদন্তে নেমে পিবিআই বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্যসহ বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করা হয়।
১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনজুর রহমান তথ্য-উপাত্ত ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে টিটুর সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করেন।
এরপর ২০ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দারুস সালাম এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তি
পিবিআই জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর আদালত টিটুর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিসিপিআর যাচাই করে টিটুর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলার তথ্যও পেয়েছে পিবিআই। ওই মামলার তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে এই প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না—এসব বিষয় এখনো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





















