কৃষকদের অবদানের স্বীকৃতিতে ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
কৃষকদের দেশের ‘আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ’ উল্লেখ করে কৃষিক্ষেত্রে অবদান ও নতুন উদ্ভাবনের স্বীকৃতি দিতে ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকরাই দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের শ্রম, মেধা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন। কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ এই পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দল-মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী জাতীয় কৃষক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি কৃষকদের পরামর্শ দেন, কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়িয়ে নিজেদের দাবি ও সমস্যাগুলো তুলে ধরতে। একই সঙ্গে কৃষকদের দাবিদাওয়াকে সংগঠিত আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক খাত। কৃষকের পরিশ্রম, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও নতুন কৃষিপদ্ধতির কারণে দেশে খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক যেন ন্যায্য দাম পান, সে জন্য কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি জানান, কৃষকদের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নতুন একটি স্কিম চালু করা হয়েছে, যার আওতায় তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের জন্য জাতীয় স্বীকৃতি, শস্যবীমা চালু, আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষক প্রতিনিধিত্ব, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা ও দুর্যোগ থেকে কৃষকদের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে এসব পণ্য রপ্তানিতে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। কৃষিঋণের সুদ, বিশেষ করে এনজিও ঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রবীণ কৃষকদের সম্মাননা প্রদান এবং আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিকীকরণ বিষয়ক মেলার পরিকল্পনার কথা রাষ্ট্রপতিকে জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণে রাষ্ট্রপতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।






















