দখল-চাঁদাবাজি ঠেকাতে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা সরকারের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে আত্মশুদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা জানায় টিআইবি।
এর আগে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর; কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিল সংস্থাটি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা সরকারের জন্য বিব্রতকর দৃষ্টান্ত তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, কেব্ল ও ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। নিয়মিত, মাসিক কিংবা এককালীন চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ঘটে চলা বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ ও ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হবে।
টিআইবি জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।





















