পবিপ্রবিতে আধুনিক দুই গবেষণাগারের উদ্বোধন, মৎস্যজাত পণ্যের মান যাচাইয়ে নতুন সম্ভাবনা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্যপণ্যের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও আধুনিক গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) একটি গবেষণাগারের সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন একটি আধুনিক গবেষণাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে পূর্বের ‘Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory’-এর সংস্কার ও আধুনিকায়নকৃত অংশ এবং খামার ভবনে নবনির্মিত ‘Advanced Analytical Laboratory’ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গবেষণাগার দুটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন HEAT-ATF Sub-project (PIN-13571)-এর সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার (SPM) ও ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।
উদ্বোধনের শুরুতে ভাইস-চ্যান্সেলর সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory পরিদর্শন করেন। পরে খামার ভবনে গিয়ে নবনির্মিত Advanced Analytical Laboratory-এর নামফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সময় সংশ্লিষ্ট ল্যাব ও প্রকল্পের ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করা হয়।
পরে অতিথিরা ল্যাবের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ল্যাবে স্থাপিত আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, গবেষণায় এর গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন। কোন যন্ত্রের মাধ্যমে কী ধরনের নমুনা প্রস্তুত, বিশ্লেষণ ও গবেষণা করা যাবে, সে বিষয়েও তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ফ্লুরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ে গুরুত্ব
নতুন Advanced Analytical Laboratory-এর অন্যতম প্রধান গবেষণার ক্ষেত্র হলো Fluorescence Fingerprint coupled with Chemometrics প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক খাদ্য ও মৎস্যজাত পণ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা দ্রুত, আধুনিক এবং non-invasive পদ্ধতিতে বিশ্লেষণের প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত HEAT উপপ্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির শিরোনাম ‘Development of a rapid, non-invasive and eco-friendly technology for seafood quality and safety analysis using Fluorescence Fingerprint coupled with chemometrics’।
গবেষণার মাধ্যমে মাছ ও অন্যান্য seafood-এর freshness, quality, chemical changes, authenticity এবং বিভিন্ন quality ও safety indicator দ্রুত মূল্যায়নের জন্য fluorescence signal ও chemometric modelling ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণেও সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে সামুদ্রিক খাদ্য ও জলজ খাদ্যপণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণে নমুনা প্রস্তুতসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময়, শ্রম ও জটিলতার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণে প্রচলিত পদ্ধতিতে এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এর বিপরীতে ফিঙ্গারপ্রিন্টিংভিত্তিক আধুনিক বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তির মাধ্যমে নমুনার রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা সম্ভব। গবেষণায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া খাদ্যপণ্যে বিভিন্ন ধরনের ভেজাল বা অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান শনাক্তকরণেও ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। তুলনামূলকভাবে সহজ নমুনা প্রস্তুতির মাধ্যমে খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
রয়েছে আধুনিক বিশ্লেষণী যন্ত্রপাতি
Advanced Analytical Laboratory-তে গবেষণা ও নমুনা বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সহায়ক সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে Fluorescence Fingerprinting Instruments এবং Fourier Transform Infrared (FTIR) Spectroscopy। এ ছাড়া আরও প্রায় ১৫ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে ল্যাবটিতে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই গবেষণাগার শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ একটি ল্যাব নয়; দেশের মৎস্য ও seafood খাতে দ্রুত, পরিবেশবান্ধব, non-invasive এবং আধুনিক মান যাচাই প্রযুক্তি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পবিত্র দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা, গবেষক, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।





















