ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেলার মামলায় আটকে কক্সবাজারের ১২৮ কোটি টাকার সড়ক

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি বাধা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর অভিযোগ, একটি সংস্থা আদালতের আদেশকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে কক্সবাজারের উন্নয়নকাজ বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।

শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ এলাকাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো কক্সবাজারকে নিয়ে সরকার বিপদের মধ্যে আছে।’

তিনি বলেন, সরকার যখনই কক্সবাজার শহরকে আধুনিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেয়, তখনই একটি সংস্থা উচ্চ আদালতে গিয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে।তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এমন হলে কক্সবাজার শহরকে সাজাব কিভাবে?’

প্রতিমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি সেটিকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে উন্নয়নকাজে বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।মীর শাহে আলম বলেন, সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীর হয়ে হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে কাজ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে একটি সংস্থা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিষেধাজ্ঞা আনায় প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে পরিবেশ ও বালিয়াড়ি রক্ষার যুক্তি তুলে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় সড়ক নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকারসহ পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে সড়ক নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বিধি-নিষেধের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না—এমন বিধিনিষেধ রয়েছে। আবার সমুদ্রতীর থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে শুধু একতলা ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মীর শাহে আলমের ভাষ্য, পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন হলেও তাঁদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত হোটেলকক্ষ পাওয়া যায় না। পর্যটন নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু একের পর এক আইনি বাধা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।

এর আগে শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মীর শাহে আলম।এ সময় তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বেলার মামলায় আটকে কক্সবাজারের ১২৮ কোটি টাকার সড়ক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি বাধা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর অভিযোগ, একটি সংস্থা আদালতের আদেশকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে কক্সবাজারের উন্নয়নকাজ বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।

শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ এলাকাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো কক্সবাজারকে নিয়ে সরকার বিপদের মধ্যে আছে।’

তিনি বলেন, সরকার যখনই কক্সবাজার শহরকে আধুনিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেয়, তখনই একটি সংস্থা উচ্চ আদালতে গিয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসে।তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এমন হলে কক্সবাজার শহরকে সাজাব কিভাবে?’

প্রতিমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি সেটিকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে উন্নয়নকাজে বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।মীর শাহে আলম বলেন, সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীর হয়ে হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে কাজ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে একটি সংস্থা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিষেধাজ্ঞা আনায় প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে পরিবেশ ও বালিয়াড়ি রক্ষার যুক্তি তুলে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় সড়ক নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকারসহ পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে সড়ক নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বিধি-নিষেধের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না—এমন বিধিনিষেধ রয়েছে। আবার সমুদ্রতীর থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে শুধু একতলা ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মীর শাহে আলমের ভাষ্য, পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন হলেও তাঁদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত হোটেলকক্ষ পাওয়া যায় না। পর্যটন নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু একের পর এক আইনি বাধা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।

এর আগে শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মীর শাহে আলম।এ সময় তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।