১০৩ NOC বাতিল, বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (NOC) বাতিলের পর বুধবার থেকে আমদানির কার্যক্রম আর চলছে না।
মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সই করা এক চিঠিতে ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি NOC বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আনার প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এসব অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
কেন আমদানি বন্ধ, নানা আলোচনা
সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রির অভিযোগ, আমদানিতে কম মূল্য দেখিয়ে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে উৎসাহ বাড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকতে পারে।
আমদানিকারকদের দাবি, কোনো পূর্ববার্তা ছাড়াই অনুমতিপত্র (আইপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বন্দর-সংশ্লিষ্টরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের সুযোগ থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়েছিল। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরে নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে এসব মাছ খালাস করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০০ টাকা কেজি দরে আমদানি করা ইলিশ বাজারে পদ্মার ইলিশ হিসেবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে।
দেশি ইলিশ নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগ
সাধারণ ক্রেতা রহিম বলেন, ভারতীয় ইলিশ দেখতে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের মতো হওয়ায় অনেক সময় ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিক মিলের কারণে কেউ কেউ দেশি ইলিশ মনে করে আমদানিকৃত মাছ কিনছেন।
সম্প্রতি বাজার তদারকির সময় বেশি দামে ভারতীয় ইলিশ বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দেশীয় ইলিশ আহরণে জেলেদের আগ্রহ কমতে পারে। একই সঙ্গে আমদানির সময় বাজারমূল্যের তুলনায় কম দাম দেখানো হলে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’-এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।
তবে এসব কারণেই আমদানি বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি মৎস্য অধিদপ্তর।
ক্ষতির দাবি আমদানিকারকদের
ইলিশ আমদানিকারক সৈয়েদ মহিদুল হক রুবাই বলেন, হঠাৎ আমদানি বন্ধ হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তিনি জানান, আমদানির জন্য ভারতের সংশ্লিষ্ট এলাকায় কেনা ইলিশ মজুত রাখা হয়েছিল। এখন সেগুলো কম দামে ফেরত দিতে হতে পারে। এর পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়ায় হওয়া ব্যয়ের ক্ষতিও বহন করতে হবে।
বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমদানি বন্ধ হওয়ায় বেনাপোলের বাজারেও ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ টন ইলিশ আমদানি হয়েছে।
অনুমোদন ছিল ১ হাজার ৭৩৯ টনের
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এসেছে ৫৩৫ টন।
১০৩টি NOC বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি করা যাবে কি না, সে বিষয়ে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
























