আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে নিঃস্ব ৪০ পরিবার, হুমকিতে স্কুলের সড়ক-ব্রিজ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বরিশালের গৌরনদীতে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন যেন থামছেই না। গত দুই বছরে নদীর ভাঙনে সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকার অন্তত ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এরই মধ্যে গত এক মাসে নতুন করে আরও পাঁচটি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
শুধু বসতভিটাই নয়, নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয় সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। আড়িয়াল খাঁ নদীর শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল এবং গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র সড়ক ও সেতুও ভাঙনের মুখে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও তা ঠেকাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। এতে ক্ষোভ বাড়ছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে।
দুইবার ঘর হারিয়ে এবার পলিথিনের ছাউনি
মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, নদীর ভাঙনে এর আগে দুইবার তার বসতভিটা বিলীন হয়েছে। পরে অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই জায়গাটিও নদীতে চলে গেছে।
এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
মিয়ারচরের প্রবীণ বাসিন্দা অলিল বেপারী (৭৫) বলেন, আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে শত শত পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন তীব্র হয়েছে।
তার ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে সরকারিভাবে ভাঙনরোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্কুলের একমাত্র পথও ভাঙনের মুখে
গৌরনদী-ধামুরা খালের তীব্র স্রোতে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার একটি অংশ ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সেতুটিও যেকোনো সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, দ্রুত ভাঙনরোধ করা না হলে বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে।
অন্যদিকে বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লার খাল এলাকার নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, পালরদী নদীর ভাঙনে এরই মধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। এখন নতুন করে নদীতীরের সড়কও ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরুর আশ্বাস
ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল।
তিনি জানান, মিয়ারচর এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে ১০০ মিটার অংশে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনের অন্য অংশও পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















