সরকারি কমিটিতে নতুন মুখ, বাদ যাচ্ছেন আওয়ামীপন্থীরা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত পুরোনো কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় বিদ্যমান কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট এ বিষয়ে একটি চিঠি জারি করা হয়। এতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। এর বেশির ভাগই কয়েক বছর আগে গঠিত। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্দেশনা পাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কেন পুনর্গঠন
সরকারি সূত্রের ভাষ্য, কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে অনেক কমিটির বৈঠক হচ্ছে না। অন্যদিকে বিভিন্ন কমিটিতে আগের সরকারের সময়ের মনোনীত ব্যক্তিরা এখনও রয়েছেন।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেকেই আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় কিছু কমিটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কোথাও কোথাও পুরোনো সদস্যদের নিয়ে সভা ডাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।
একজন জেলা প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির বর্তমান সভাপতিকে সভায় ডাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে কমিটিটি দ্রুত পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন কমিটিতে নিয়োগ পাওয়া কিছু ব্যক্তিকেও নতুন বাস্তবতায় পুনর্গঠিত কমিটিতে রাখা হবে না।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। বরং সব বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, বিভিন্ন কমিটিতে সাধারণত তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকায় অনেক কমিটি দীর্ঘদিন পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে আগের সরকারের সময়ে থাকা প্রতিনিধিরাও এসব কমিটিতে রয়ে গেছেন।
প্রতিটি কমিটিতে তিন গণ্যমান্য ব্যক্তি
নতুন করে গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে।
চিঠি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক ওই তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার কমিটি পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
৯৮ জেলা কমিটিতে পরিবর্তন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় ডিসিদের সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটির উল্লেখ রয়েছে। এসব কমিটিও পুনর্গঠনের আওতায় আনা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্যাপন কমিটি এবং আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ–সংক্রান্ত কমিটি।
এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি এবং ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতিও ডিসিরা।
জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদানের আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটিও এই তালিকায় রয়েছে।
পুরোনো কাঠামোতেই থাকবে প্রতিনিধিত্ব
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের সরকারের সময়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পাঁচজন সদস্য রাখার ব্যবস্থা ছিল। তাঁদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সাংবাদিক এবং তিনজন রাজনৈতিক প্রতিনিধি থাকতেন।
নতুন করে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যক প্রতিনিধিত্ব রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন দীর্ঘদিন বৈঠক না হওয়া এবং পুরোনো সদস্যদের উপস্থিতির কারণে কার্যক্রমে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।






















