বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত, সিসিটিভিতে শনাক্ত কিশোর গ্রেপ্তার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম নিহত হওয়ার ঘটনায় গাড়ি চালানো সেই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গুলশান থানা-পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কিশোরটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। বয়স কম হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কিশোরটিকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম যে মামলা করেছেন, সেখানে ওই কিশোরের নাম নেই। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারক নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে ওই ব্যক্তি পলাতক।
দুর্ঘটনার পর আটক, পরে পরিবারের কাছে
মঙ্গলবার বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর পরপর দুটি ল্যাম্প পোস্টে ধাক্কা দেয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রোটন ব্র্যান্ডের একটি সেডান গাড়ি মেহেদীকে চাপা দিয়ে ল্যাম্প পোস্টে ধাক্কা দেওয়ার পর থেমে যায়। এরপর চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট ও সাদা ট্রাউজার পরা এক কিশোর বেরিয়ে আসে। পাশের আসন থেকেও আরেকজন বের হন।
দুর্ঘটনার পর কিশোরটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে কিশোর ও গাড়িটিকে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই কিশোরটিকে পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। পরদিন সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে তার সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাড়িটির কাগজপত্র যাচাই করে পুলিশ জানতে পারে, এটি সিগমা আব্বাস নামে এক নারীর নামে নিবন্ধিত। তাঁর স্বামী আব্বাস আলী শরীফ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন।
পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিলেন মেহেদী
দুর্ঘটনার পর মেহেদীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামের হাজীপাড়ায় মেহেদীর বাড়ি। বুধবার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
স্বজনেরা জানান, মেহেদী ডোমার সরকারি কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে নিয়মিত আয় করতেন তিনি।
মেহেদীর মামাতো ভাই সাজ্জাদ চৌধুরী জয় বলেন, মেহেদী শুনতে ও কথা বলতে পারতেন না। বাবার বয়স হয়ে যাওয়ায় পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি।
পরিবারে ছিলেন দুই ভাই ও এক বোন। বড় ভাই মোক্তাদীর আলাদা সংসারে থাকেন এবং বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে বাবা-মাকে নিয়ে মেহেদীর ওপরই ছিল পরিবারের বড় দায়িত্ব। পরিবারের কোনো আবাদি জমিও নেই; আছে শুধু বসতভিটা।
স্বজনেরা জানান, শ্রমজীবী হওয়ার পাশাপাশি মেহেদীর সৃজনশীল কাজের প্রতিও আগ্রহ ছিল। কাগজের ফুলসহ বিভিন্ন ধরনের শৈল্পিক কাজ করতে পারতেন তিনি।
গত সোমবার রাতে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন মেহেদী। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছে কাজে যোগ দেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই কর্মস্থল থেকে তাঁর লাশ হয়ে ফেরার খবর আসে বাড়িতে।
ছেলেকে হারিয়ে মেহেদীর মা মিনু বেগমের আহাজারি থামছিল না। তিনি বলেন, “আমার ছেলে পরশু বাড়ি থেকে গেল, আজ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল।”
এদিকে কিশোর চালককে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে নতুন করে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলায় আসামি করা গাড়ির কথিত চালক আকাশ মারককে গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চলছে।






















